জুমবাংলা ডেস্ক : জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এবং বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ এ দাবি করেন।
মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারা এসব দাবি তোলেন।
বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জিএম কাদের বলেন, করোনা মহামারীর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সে কারণে উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি। আবার লকডাউনের কারণে অফিস-আদালতের কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় সরকারি চাকরির নিয়োগ কার্যক্রম থমকে আছে। এসব কারণে অনেকের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের নির্ধারিত বয়স ৩০ পার হয়েছে, অনেকের পার হওয়ার পথে। চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি করে ৩২ বছর করার দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী জাতিকে এ ব্যাপারে একটা আশ্বাস দেবেন, বলেন তিনি।
অর্থবিল পাসের আগে বিলের সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সাল থেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। সুতরাং আজকে যাদের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, তারা অস্থির অবস্থায় আছে। এটা বিবেচনায় রেখে অন্ততপক্ষে কোভিডকালীন সময়ে যতক্ষণ না পর্যন্ত করোনামুক্ত হচ্ছি, তার জন্য এই সময়টায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবি করছি।
বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ আরও বলেন, বেসরকারি মানসম্মত স্কুল-কলেজে কর আরোপ দূরের কথা, এদেরকে প্রণোদনা দেন। এদের আরও আর্থিক সহায়তা দেন। তাহলে দেশে যে দক্ষ জনবল জনশক্তি করতে চাচ্ছি, সেক্ষেত্রে আমরা অনেক বেশি অগ্রসর হবো।
অন্যদিকে, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকারি নিয়োগের যেসমস্ত স্থগিত হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিল করা হবে। চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যে সময় নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, সেই সময় থেকে কয়েক মাস বয়সে ছাড় পাবেন চাকরিপ্রার্থীরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি চাকরিতে মোট অনুমোদিত পদ ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮৬৮টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন, সেখানে নারী চার লাখ ১৪ হাজার ৪১২ জন। পদ শূন্য রয়েছে তিন লাখ ৮০ হাজার ৯৫৫টি। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধিনিষেধের কারণে গত এপ্রিল মাস থেকে সরকারি চাকরিতে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে আছে। এই অবস্থায় দেশে বেকারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। অনেক চাকরিপ্রার্থীই বয়স সীমার কারণে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার যোগ্যতা বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রেই ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ছাড় দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার জন্য শিগগিরই নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতির কারণে দেড় বছরের বেশি সময় নষ্ট হওয়ায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। গত বছর করোনা মাহামারিত সাধারণ ছুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের বয়সের ছাড় দেয় সরকার। ওই বছর ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছিল তাদের পরবর্তী পাঁচ মাস পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


