শীত মৌসুম এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সাধারণত জানুয়ারি মাসকে বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল সময় হিসেবে ধরা হয়।চলতি শীতেও কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবনে ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে। তবে আবহাওয়া সংক্রান্ত পুরোনো তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অতীতে বাংলাদেশ আরও ভয়াবহ শীতের অভিজ্ঞতা পেয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংরক্ষিত নথি অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের পর থেকে কয়েক দফা দেশের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে। ষাটের দশকেই প্রথমবার এমন চরম শীতের রেকর্ড পাওয়া যায়।
১৯৬৪ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নেমে আসে ৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পরে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি একই এলাকায় আরও তীব্র শীত অনুভূত হয়, যখন পারদ নেমে দাঁড়ায় মাত্র ২ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় এই রেকর্ড অক্ষত থাকলেও, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। ওই সময় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে আসে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচিত।
২০১৮ সালেই নীলফামারীর সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে ডিমলা, রাজারহাট ও দিনাজপুরে তাপমাত্রা তিন ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করে। এর আগেও ২০১৩ সালে রংপুর, দিনাজপুর ও সৈয়দপুর অঞ্চলে কাছাকাছি মাত্রার শীত রেকর্ড হয়েছিল। আর ২০০৩ সালে রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমেছিল ৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, শীত মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলেই সাধারণত সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়। পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা উত্তর ভারতের শীতল বাতাস প্রথমেই এই অঞ্চলে প্রবেশ করে। পাশাপাশি খোলা মাঠ, কম আর্দ্রতা ও রাতে দ্রুত তাপ বিকিরণের কারণে সেখানে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি হয়।
ঢাকার উত্তরায় শীতার্তদের পাশে ‘কানেকশন এইড ফাউন্ডেশন’: মুগ্ধ মঞ্চে শীতবস্ত্র বিতরণ
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শীতকালে তাপমাত্রার ওঠানামা স্বাভাবিক বিষয়। তবে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার সময় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


