শিক্ষাব্যবস্থাকে জিপিএ-কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা থেকে বের করে এনে আনন্দমুখী ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উঠে এসেছে শিক্ষার্থীরা শুধু নম্বর নয়, চায় আনন্দঘন শেখার পরিবেশ।

এ প্রেক্ষাপটে ‘লার্নিং উইথ জয়’ কার্যক্রম, মিড-ডে মিল, সহপাঠ্য কার্যক্রম জোরদারসহ একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষক ও কারিকুলাম মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সেশন শেষে ব্রিফিং করেন মন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন, মাউশির মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, খেলার মাঠ ও পরীক্ষা হলের সংকট নিরসনে প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে ‘লার্নিং উইথ জয়’ কার্যক্রম, মিড-ডে মিল, স্কুল ড্রেস ও সহপাঠ্য কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। একীভূত কারিকুলাম বাস্তবায়ন, চা-বাগান এলাকায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপন এবং দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না। তাদের নিয়োগ কিছুটা তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন হয়েছে, এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি না। সবাই যোগদানের সুযোগ পাবে।
যোগদানের সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিগ্গিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সচিবালয়ে ফাইল পর্যালোচনা করে বাকি প্রক্রিয়া শেষ হলেই যোগদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।’ তবে শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ কার্যকর হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, যোগদানের পর শিক্ষকদের পিটিআইতে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সেখানে কেউ ব্যর্থ হলে তিনি শিক্ষক হিসাবে বহাল থাকতে পারবেন না। এছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর টানা দুই বছর সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন করলে তবেই তাদের স্থায়ী করা হবে।
শিক্ষা খাতে শিক্ষক সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ মামলা জটিলতায় আটকে আছে। পাশাপাশি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা মাথা ভারী প্রশাসন চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, দক্ষ শিক্ষক তৈরি এবং কার্যকর কারিকুলাম বাস্তবায়ন।
রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখতে চায় দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাদের ডিগ্রির সমমান নির্ধারণে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। প্রয়োজনে কারিগরি শিক্ষার সংযুক্তিও বিবেচনা করা হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


