
বিশেষ প্রতিনিধি: সিনিয়র সাংবাদিক ও বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহিদ ইকবাল-কে দলবদ্ধভাবে ঘিরে হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি। একই সঙ্গে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকার জামতলার জাহিদ ইকবাল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং হঠাৎ করে সেখানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক জাহিদ ইকবালকে ঘিরে ধরে এবং তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বন্ধু ও সহকর্মীকেও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দলবদ্ধ ওই গ্যাং সদস্যরা প্রকাশ্যে অশালীন আচরণ করে এবং সাংবাদিক জাহিদ ইকবালকে অপমানজনক ভাষায় হুমকি দেয়।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে বক্তব্য দিয়েছেন মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং লায়ন আল আমিন। তারা যথাক্রমে সংগঠনটির চেয়ারম্যান, মহাসচিব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বিবৃতিতে বলেন, “দেশ কোথায় যাচ্ছে? নিজ জন্মভূমিতে সত্য উচ্চারণের কারণে একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে মব সন্ত্রাসের মুখে পড়তে হবে—এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল শুধু একজন গণমাধ্যমকর্মী নন; তিনি একজন সুপরিচিত সমাজসেবক এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। তিনি এ এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অথচ এমন একজন ব্যক্তির ওপর প্রকাশ্যে হামলা ও হুমকির ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সবুজ গং এলাকার চিহ্নিত দখলবাজ, চাঁদাবাজ এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সমাজে মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
মানবাধিকার সমিতির নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই ঘটনাকে কোনোভাবেই তুচ্ছ বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। অবিলম্বে সন্ত্রাসী সবুজ গংদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
একই সঙ্গে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ প্রসঙ্গে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তারা। কারণ এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বলেও উল্লেখ করা হয়।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেফতার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


