
স্পোর্টস ডেস্ক : স্কটল্যান্ডের দেওয়া ১৪১ রান তাড়া করতে নেমে পরপর দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে তারপরই দলের হাল ধরেছিলেন অভিজ্ঞ দুই টাইগার সদস্য সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম।
তাদের ব্যাটে ভর করে চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ইনিংসের নবম ওভারে যখন রান-রেট আর চাপ বাড়ছিল ঠিক তখনই মুশফিক পরপর দুই ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ অনেকটাই কমিয়েছিলেন। এক ওভারে ১৮ রান তুলেছেন তিনি।
এদিকে, আশা জাগিয়েও শেষপর্যন্ত টিকতে পারলেন না সাকিব-মুশফিক। ধীরগতির ব্যাটিংয়ের খোলস ছেড়ে যখন হাত খুলে খেলবেন ঠিক তখনই কাটা পড়লেন। ২৮ বলে ২০ রান করে ফিরে গেছেন তিনি।
আগের বলে রান-আউটের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন সাকিব। তবে জীবন পেয়ে বেশিদূর এগোনো হলো না তার। ক্রিস গ্রিভসের প্রথম বলটা ছিল লং-হপ। সাকিব তুলে মারতে গিয়েছিলেন, সীমানার ওপর ডানদিকে ছোটা ক্যালাম ম্যাকলাউডের হাতে ধরা পড়েছেন। ভাঙলো মুশফিকের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি।
সাকিরেবর পর সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিক। ৩৬ বলে ৩৮ করে ফিরে গেছেন তিনিও। এর আগে বিশ্বমঞ্চেও হতাশ করলেন সৌম্য সরকার। স্কটল্যান্ডের দেওয়া ১৪১ রানের লক্ষ্যে উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাট করতে নেমেছিলেন লিটন আর সৌম্য।
প্রথম ওভারে বল বাউন্ডারি পার করে ঝড় তোলার বার্তা দিয়েছিলেন সৌম্য। তবে পরের ওভারেই ক্যাচ তুলে দিলেন। জশ ডেভিকে তুলে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে জর্জ মানসির হাতে ধরা পড়েছেন বাংলাদেশ ওপেনার। ৫ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি।
সৌম্যর আগের ওভারের ওই শটের পর লেগসাইডে বাউন্ডারিতে দুজন ফিল্ডারকে রেখেছিলেন কাইল কোয়েটজার, সৌম্য ধরা পড়লেন সে ফাঁদেই। ধারাভাষ্যে থাকা অ্যালান উইলকিনসের মতে, সে ক্যাচ ধরার জন্য মানসি এমনভাবে অপেক্ষা করছিলেন, ট্রেন ধরতে কেউ যেমন করেন।
সৌম্যর ব্যর্থতার দিনে একই বৃত্তে বন্দি লিটন কুমার দাসও। ব্র্যাড হুইলের বলে জোরের ওপর খেলতে গিয়েছিলেন, তবে মিড-অফে ধরা পড়লেন সরাসরি। সাজঘরে ফেরার আগে করেছেন ৭ বলে ৫ রান।
প্রথম ইনিংসে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের ঝাঁঝে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪০ সংগ্রহ করে স্কটিশরা। এর আগে ইনিংসের প্রথম ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই সাফল্য প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন তাসকিন আহমেদ। তার এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছিলেন স্কটিশ ব্যাটার জর্জ মানসি। তবে আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। রিভিউও করেনি বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ওভারে বোলিং করতে আসেন মুস্তাফিজুর রহমান। এলবিডব্লুর আবেদন হয়েছিল তার বলেও, তবে তাতেও সাড়া মেলেনি।
বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সাফল্য এনে দিলেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই সাফল্য পান তিনি। চাপটা ছিল প্রথম ওভার থেকেই। তাসকিন-মুস্তাফিজের পর সাইফউদ্দিনের ওপর ভরসা রাখেন মাহমুদউল্লাহ। চতুর্থ বলেই সফল হলেন সাইফউদ্দিন। তার দারুণ ইয়র্কারের জবাব ছিল না কাইল কোয়েটজারের, ৭ বল খেলে কোনো রান না করেই ফিরে গেছেন স্কটিশ অধিনায়ক।
ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে বল করতে এসে বেশ খরুচে ছিলেন মুস্তাফিজ। তার করা ওভারের দ্বিতীয় বলে চার, পঞ্চম বলে ছয় হাঁকান মানসি। পাওয়ার প্লে শেষে স্কটল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেট হারিয়ে ৩৯।
মুস্তাফিজের ওপর চড়াও হওয়ার পর বাংলাদেশের পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্কটল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটার জর্জ মানসি। তবে পথের কাটা সরান মেহেদী হাসান। এর আগে একই ওভারে শিকারে পরিণত করেন ম্যাথু ক্রসকে। তার জোড়া আঘাতে ম্যাচে প্রাণ ফিরে পায় টাইগাররা।
আউট হওয়ার আগে জর্জ মানসি করেছিলেন ২৩ বলে ২৯ রান। এছাড়া ম্যাথিউ ক্রস করেছেন ১৭ বলে ১৩ রান। এদিকে, মেহেদীর জোড়া আঘাতের পর জোড়া সাফল্য পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। আর এর মধ্য দিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত হলো। লঙ্কান কিংবদন্তি বোলার লাসিথ মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে এখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এখন তার উইকেট সংখ্যা ১০৮টি।
সাকিব রেকর্ড গড়ার পরের ওভারে আবারও সাফল্য পান মেহেদী। এ নিয়ে ম্যাচে ৩ উইকেট পেলেন তিনি। ব্যক্তিগত ৪ ওভার বল করে ১৯ রান দিয়ে মূল্যবান ৩ উইকেট শিকার করে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


