জুমবাংলা ডেস্ক: ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ঐদিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। কিন্তু তত্কালীন প্রধান বিচারপতি ছুটি প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকা প্রণয়ন করেন। ঐ দিন থেকে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭২ সালে উদ্বোধনের দিন সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে এসেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষণ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী ও সুধীবৃন্দের উদ্দেশে।
বঙ্গবন্ধু তার বক্তব্যে আইনের শাসনের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আইনের শাসনে আমরা বিশ্বাস করি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই অনেকে আমরা সংগ্রাম করেছি এবং এই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক মানুষের রক্ত দিতে হয়েছে। বাংলাদেশে আইনের শাসনই প্রতিষ্ঠিত হবে। সেজন্যই শাসনতন্ত্র এত তাড়াতাড়ি দিয়েছিলাম। যদি ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা, যদি রাজনীতি করতাম আপনারা নিশ্চয়ই আমার পাশে যারা বসে আছেন জানেন যে, তালে তাল মিলিয়ে, গালে গাল মিলিয়ে বহুকাল ক্ষমতায় থাকতে পারতাম। কিন্তু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি নাই, রাজনীতি করেছিলাম মানুষের মুক্তির জন্য। সে মানুষের মুক্তি মিথ্যা হয়ে যাবে যদি মানুষ তার শাসনতন্ত্র না পায়। আইনের শাসন না পায়।’ বঙ্গবন্ধু বক্তব্য শেষ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই প্রত্যাশা নিয়ে, ‘এত বিপদ-আপদ, এত অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্টের মধ্যে শাসনতন্ত্র দিয়েছি। এত তাড়াতাড়ি এজন্য দিয়েছি যে আইনের শাসনে বিশ্বাস করি এবং সেজন্য শাসনতন্ত্র দেওয়া হয়েছে। আজ আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। আমাদের শাসনতন্ত্র হয়েছে যার জন্য বহু রক্ত গেছে, এদেশে আজ আমাদের সুপ্রিম কোর্ট হয়েছে। যার কাছে মানুষ বিচার আশা করে।’
২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ওইদিন সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘ফুলকোর্ট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রথম যেদিন উচ্চ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল (১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর), সেদিন অর্থাৎ ১৮ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালন করা হবে।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে ৫ম বারের মতো পালিত হচ্ছে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস-২০২১’।
দিবসটি পালন উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে বঙ্গভবন হতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্হিত থাকবেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক উপস্হিত থাকবেন বিশেষ অতিথি হিসেবে। সভাপতিত্ব করবেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিগণ, আইনজীবীবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে ‘সুপ্রিম কোর্টের জাজেস কমপ্লেক্স’ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস উদ্যাপন সংক্রান্ত জাজেস কমিটির সভাপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



