চট্টগ্রামে সাবেক পুলিশ সদস্যদের নেতৃত্বে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ছিনতাইয়ের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা থেকে সাবেক পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাসসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম। সুমনের নেতৃত্বেই ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

গ্রেপ্তার অন্য পাঁচজন হলেন- মাসুদ রানা, রফিকুল ইসলাম, রবি কুমার, পান্না রানী দাস ও বিবেক বণিক। বৃহস্পতিবার গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ সাবেক পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাসসহ উক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
গত রবিবার (৪ জানুয়ারি) ভোরে নগরের পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করেন। পরে অস্ত্রের মুখে অটোরিকশায় থাকা তিনজনের কাছ থেকে ৩৫টি সোনার বার (৩৫০ ভরি) ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় দোকানের কর্মচারী সুবজ দেবনাথ মামলা করেন।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে ধারাবাহিক অভিযানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ২৯০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সোনা উদ্ধারে অভিযান চলছে।
কে এই সুমন চন্দ্র দাস?
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, সুমন চন্দ্র দাস ২০১৯ সালে নগরের চকবাজার থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এক ব্যক্তিকে আটক করে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে এএসআই পদ থেকে নায়েক পদে নামানো হয়। ২০২০ সালে ছিনতাইয়ের সময় পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। জামিনে মুক্তির পরও তিনি অপরাধ থেকে সরে আসেননি। ২০২৩ সালে সোনার বার ছিনতাইয়ের আরেকটি ঘটনায় সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগে নগরের পাঁচলাইশ থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত রবিবার ভোরে নগরের হাজারী গলি এলাকার একটি সোনার দোকানের তিন কর্মচারী সোনা গলানোর জন্য ভাটিয়ারীর উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি মুরাদপুর–অক্সিজেন সড়কের আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা চার যুবক গতি রোধ করেন এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সোনার বারগুলো নিয়ে পালিয়ে যান।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাবিবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সুমন চন্দ্র দাস সাবেক পুলিশ সদস্য। তার নেতৃত্বেই সোনার বারগুলো ছিনতাই করা হয়েছে। সোনার বারগুলো হাজারী গলির এক ব্যবসায়ীর। ওই দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিক আগাম তথ্য দিয়ে ছিনতাইয়ে সহযোগিতা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


