জুমবাংলা ডেস্ক : বিস্ময়কর শিশু বাসিত খান মুসা। বয়স মাত্র ৭ বছর। যে সময় তার হেসে খেলে ঘুরে বেড়ানোর কথা সে সময় স্বৈরশাসকের ছোড়া বুলেটে মস্তিষ্কে মারাত্মক আহত হয়ে আইসিইউতে মৃত্যুর প্রহর গুণছে। ৭ বছরের শিশুও বাদ যায়নি স্বৈরাচারের ঘাতক বুলেটের হাত থেকে।
মুস্তাফিজুর রহমান ও নিশামনি দম্পতির একমাত্র সন্তান বাসিত খান মুসা। পরিবারটির বসবাস রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়া হাট এলাকায়। মালিবাগে মুসার বাবা ও দাদার ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকান আছে। গত ১৯ জুলাই মেরাদিয়া হাট এলাকায় নিজ বাসার নিচে মুসাকে আইসক্রিম কিনে দিতে নেমে নাতিসহ দাদি মায়া ইসলাম (৬০) গুলিবিদ্ধ হন। মায়া ইসলাম পরদিন মারা যান। মুসার মাথার একপাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে চলে যায়। বাঁচার কথা না থাকলেও স্রষ্টার অশেষ কৃপায় বেঁচে যায় সে।
গুলিবিদ্ধ মুসাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। গত ২৬ আগস্ট তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানের চিকিৎসকরা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নিতে হবে। শিশুটির পাশে এসে দাঁড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত দেন। সেই সঙ্গে তিনি বেসরকারিভাবে অন্যদের এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিজে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করেন। চ্যানেল আই মুসাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর জন্য বিনামূল্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দেয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ২০তম ব্যাচের চিকিৎসকদের উদ্যোগে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত চিকিৎসক, প্রবাসীসহ সাধারণ মানুষ অর্থ-সহায়তা দিয়ে মুসার পাশে দাঁড়ান।
গত ২২ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য মুসাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ৫ মাসের বেশি সময় ধরে মুসার চিকিৎসা চলে। চিকিৎসায় তার শারীরিক অবস্থার বেশ উন্নতি হয়েছে। এখন বেশ ভালো আছে মুসা। সরকার তার চিকিৎসা ব্যয়ে সামান্যতম ঘাটতি করে নাই। মুসার চিকিৎসা হয়েছে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে। যে মুসাকে জীবিত থাকার কথা কল্পনাই করা যায় নাই আজ সে ফিরে আসছে দেশে।
আগামীকাল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মা-বাবার সঙ্গে দেশে ফিরে আসছে মুসা। এসকিউ ৪৪৬ ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।