সম্প্রতি বিশ্ববাজারে সোনার দামে একটি বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। সোনার দাম/স্বর্ণের দামে দরপতনের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তার এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে সোনার দাম একদিনেই প্রতি আউন্সে ৭০ ডলারের বেশি কমে গেছে।
ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার প্রভাব
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় ২ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। চীনের ওপর ৩৪%, বাংলাদেশের ওপর ৩৭%, ভারতের ওপর ২৬%, জাপানের ওপর ২৪% এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০% শুল্ক আরোপ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার চাহিদায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তন ঘটে।
Table of Contents
বিশ্ববাজারে সোনার দামের ওঠানামা
ট্রাম্পের ঘোষণার আগে এক সপ্তাহে প্রতি আউন্স সোনার দাম/স্বর্ণের দাম ৩০৩৭ ডলার থেকে বেড়ে ৩১৬২.৬০ ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু নতুন শুল্কের ঘোষণার পর এ দাম হঠাৎই কমে যায় এবং এক আউন্স সোনার দাম কমে দাঁড়ায় ৩০৮০ ডলারে। এই পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয় এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
দেশীয় বাজারে সোনার দামের বর্তমান অবস্থা
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশের সোনার বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির ধারা লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ ২৯ মার্চ সোনার দাম নির্ধারণ করেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১,৫৭,৮৭২ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় ১,৭৭৩ টাকা বেশি।
২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ১,৫০,৬৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১,২৯,১৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১,০৬,৫৩৯ টাকা।
ঈদের ছুটির প্রভাব এবং বাজার স্থবিরতা
বিশ্ববাজারে সোনার দাম/স্বর্ণের দাম বাড়লেও ঈদের ছুটির কারণে দেশের বাজারে সোনার দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। অনেক ব্যবসায়ী ছুটির কারণে নতুন দামের তালিকা প্রকাশ করতে পারেননি, ফলে দাম আগের অবস্থানেই রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য করণীয়
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের উচিত বিশ্ববাজারের গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সোনা কেনাবেচার ক্ষেত্রে সর্তক থাকা। যেহেতু শুল্কের দ্বিতীয় ধাপ ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে, তাই বাজারে আবারো অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ পাওয়া যাবে অর্থনীতি বিভাগে।
সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন দেশ তাদের রপ্তানি বাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বাংলাদেশ, যাদের পণ্য রপ্তানির বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়, সেখানে ৩৭% শুল্ক আরোপ দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে আন্তর্জাতিক বিভাগে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব
এই পরিস্থিতি শুধু সোনা নয়, বরং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে গ্লোবাল ট্রেডে একটি নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে এই প্রতিবেদনে।
সোনার দামে পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ প্রবণতা
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে সোনার দামের ওঠানামা আগামী সপ্তাহগুলোতেও চলতে থাকবে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নির্ভর করবে পরবর্তী আন্তর্জাতিক নীতিমালার ওপর।
FAQs: প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি
- সোনার দাম/স্বর্ণের দাম হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণ কী?
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ঘোষণা ও বিশ্ববাজারের উদ্বেগ এর প্রধান কারণ। - দেশে সোনার দাম আবার কমবে কি?
বাজার স্থিতিশীল হলে দাম কমতে পারে, তবে সেটা শুল্কের দ্বিতীয় ধাপ কার্যকরের পর বোঝা যাবে। - সোনা এখন কেনা উচিত হবে কি?
যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সময় হতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।