বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম (মূল কীওয়ার্ড) নিয়ে এক ধরণের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন মাসে দেশের বাজারে স্বর্ণের সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ বার, যার মধ্যে মাত্র ৩ বার কমানো হয়েছে। এমন ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে স্বর্ণকে পৌঁছে দিচ্ছে। এখন এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
কেন বাড়ছে স্বর্ণের দাম/সোনার দাম?
বাংলাদেশে স্বর্ণ উৎপাদন না থাকায় পুরোপুরি আমদানি নির্ভর এই বাজারটি বিশ্ববাজারের উপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম/সোনার দাম ৩১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।
Table of Contents
এছাড়াও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণে বিনিয়োগে আগ্রহ বেড়েছে। এই ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির ফলেই স্বর্ণের দাম বাড়ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও রিজার্ভ বাড়াতে প্রচুর স্বর্ণ কিনছে। টানা তিন বছর ধরে ১০০০ টনের বেশি স্বর্ণ কিনছে তারা। এটি একটি বড় কারণ, যা মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে।
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম/সোনার দাম পরিবর্তনের পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১৭ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:
- ১৫ জানুয়ারি: ১,৩৯,৪৪৩ টাকা (২২ ক্যারেট)
- ২৮ মার্চ: ১,৫৭,৮৭২ টাকা (২২ ক্যারেট) – সর্বোচ্চ রেকর্ড দাম
স্বর্ণের দাম/সোনার দাম পরিবর্তনের হার সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এক ভরির দাম বাড়ল আরও ২২৫০ টাকা – এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত অঙ্ক থেকে বোঝা যায়, কত দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও প্রভাব
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রধান বাজার কৌশলবিদ জো কাভাতোনি বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমদানি শুল্ক নীতিও এতে বড় ভূমিকা রাখছে, যার প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে ঝুঁকছেন।
এই বিষয়ে আরও বিশদ জানতে পড়ুন এই প্রতিবেদন।
স্বর্ণের দামের উত্থানে সাধারণ মানুষের প্রভাব
বিয়ের গয়না কিংবা দৈনন্দিন অলংকারে ব্যবহৃত স্বর্ণ এখন অনেকের জন্য স্বপ্নের সামগ্রী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য এটি আর আগের মতো সহজলভ্য নয়। অনেকে পুরনো স্বর্ণ বিক্রি করে নতুন কিনতে পারছেন না, আবার অনেকে বিনিয়োগ হিসেবেও স্বর্ণে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
স্বর্ণের বিকল্প বিনিয়োগ কি হতে পারে?
যেহেতু স্বর্ণের দাম/সোনার দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে, তাই অনেকে বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যম খুঁজছেন। শেয়ারবাজার, রিয়েল এস্টেট এবং ডিজিটাল সম্পদ হতে পারে সম্ভাব্য বিকল্প। তবে এখনো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণই সবচেয়ে বিশ্বস্ত।
এ বিষয়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩১০০ ডলার ছাড়াল এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
FAQ: স্বর্ণের দাম/সোনার দাম সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন
- বর্তমানে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? – ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা।
- কেন স্বর্ণের দাম এত বাড়ছে? – বিশ্ববাজারে চাহিদা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি।
- স্বর্ণ কেন বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ? – এটি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
স্বর্ণের দাম/সোনার দাম (মূল কীওয়ার্ড) গত তিন মাসে যে হারে বেড়েছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য চিন্তার কারণ। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশ্ববাজারের চাহিদা ও মুদ্রানীতির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়বে নাকি স্থিতিশীল হবে, তা নির্ভর করছে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উপর।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।