
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাগর চৌধুরী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের কাছে।
এছাড়া চুরি হওয়া স্বর্ণ কেনার অপরাধে প্রেমা রাজবংশী নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ (দক্ষিণ) হুমায়ন কবির, দোহার সার্কেলের এএসপি জহিরুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম এবং ডিবি ঢাকা দক্ষিণের তৎপরতায় আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
ডিবি ঢাকা দক্ষিণের ওসি (তদন্ত) আরাফাত হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মোকলেছ চৌধুরীর ছেলে সাগর চৌধুরী (৩৯) এবং একই উপজেলার আলগীরচর গ্রামের কার্তিক রাজবংশীর ছেলে প্রেমা রাজবংশী (৩৫)। গ্রেপ্তারকৃত সাগর এর আগে হরিষকুল গ্রামেই বসবাস করতো।
ঘটনার কারণ সম্পর্কে আরাফাত হোসেন বলেন, মন্দিরে প্রতিমা থাকা স্বর্ণের লোভেই মূলত সাগর এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আগে হরিষকুল গ্রামেই থাকতেন। সে সুবাদে সেখানকার সবকিছু জানতেন। গেলো রোববার পালপাড়ার রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে দুই আনা পরিমাণ স্বর্ণের চাঁদ (টিপ) খুলে নেয় প্রতিমার কপাল থেকে। খুলে নেয়ার সময় টান লেগে প্রতিমা ভেঙে যায়। সোনার ওই টিপ দুটি নবাবগঞ্জের বাগমারা বাজারের স্বর্ণকার প্রেমা রাজবংশীর কাছে বিক্রি করে সাগর। যে কারণে প্রেমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার ভোরে চুরির উদ্দেশে আবার একই ঘটনা ঘটায় সাগর।
হরিষকুলের গোবিন্দ পালের বাড়ির কালি মন্দিরে গিয়ে সেখান থেকে প্রতিমার শরীরে থাকা একটি চাদর চুরি করে নিয়ে আসে। এরপরে পাশের আরেকটি বাড়ির শীতলা মন্দিরে যায় সে। সেখানে ওই প্রতিমার দুই হাতে থাকা শাঁখাগুলোকে স্বর্ণের মনে করে হাত ধরে টান দিয়ে দুটি হাত ভেঙে ফেলে। গ্রেপ্তারকৃত সাগর ও প্রেমা পুরো ঘটনা স্বীকার করেছে ।
আরাফাত হোসেন জানান, মন্দির থেকে চুরি হওয়া চাদরটি ক্লু হিসেবে নিয়ে সাগরকে বৃহস্পতিবার সকালে কাশিমপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী স্বর্ণকার প্রেমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, মূলত স্বর্ণের লোভেই মন্দিরের পরপর এ ঘটনা ঘটায় সাগর। দুই বছর আগে হরিষকুল গ্রামে মন্দিরে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় তাকে মারধরও করেছিল এলাকার মানুষ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


