ইরান ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ায় ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ট্রানজিটের সংখ্যা সাম্প্রতিক দিনে কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক তথ্য সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সংস্থাটির দেয়া তথ্যমতে, সোমবার ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া অন্তত আটটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে, যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আরেক ট্র্যাকিং সেবা মেরিনট্র্যাফিক একই দিনে নয়টি জাহাজ চলাচলের তথ্য দিয়েছে, যেখানে এর আগে প্রতিদিন গড়ে পাঁচটি ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কিছু জাহাজ এখন ইরানের জলসীমা ব্যবহার করে বিকল্প রুট নিচ্ছে, তেহরান বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অনুমতিনির্ভর চলাচলের সুযোগ দেয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজগুলোই বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। ফলে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি বেশি।
এদিকে প্রণালীর অবস্থা নিয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, প্রণালী খোলা রয়েছে, তবে শত্রুদের জন্য বন্ধ। এর আগে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করেছিল, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে তা ধ্বংস করা হতে পারে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই রুটে চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের সহায়তা ছাড়াই পদক্ষেপ নিতে পারে। একই দিনে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


