ঢাকার আকাশ অন্ধকার করে আকস্মিকভাবে নেমেছে ঝুম বৃষ্টি। আধঘণ্টার এ বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমতে দেখা গেছে। কোথাও তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। অস্বস্তি দেখা গেছে পশুর আচরণেও। তবে জমে থাকা পানিতে হাটের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হলেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই চলছে কোরবানির পশু বেচাকেনা।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ঠিক ১২টার দিকে আকাশ কালো হয়ে হালকা দমকা বাতাসের পর নামে মুশলধারে বৃষ্টি। এতে মতিঝিল, রাজারবাগ, মৌচাক ও মালিবাগ এলাকার প্রায় প্রতিটি রাস্তায় পানি জমে যায়।
রাজারবাগ থেকে মৌচাক, কমলাপুর, মতিঝিলের কিছু কিছু রাস্তা দীর্ঘক্ষণ হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে থাকতে দেখা যায়। আকস্মিক এ জলাবদ্ধতা সড়কে চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝেই অটোরিকশা-প্রাইভেটকার বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর আগেও সামান্য বৃষ্টিতে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত এসব রাস্তায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
তবে সড়কের ভোগান্তিকে ছাড়িয়ে গেছে পশুর হাটের জলাবদ্ধতা। হঠাৎ বৃষ্টিতে হাটের ভেতরের নিচু জায়গাগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে শাহজাহানপুর হাটের এক অংশে হাঁটু পানিতেই বেচাকেনা চলতে দেখা গেছে।
হাটে আসা ক্রেতারা জানান, পশুর স্বাস্থ্য ও জাত যাচাই করতে গিয়ে তাদের নোংরা পানিতে নামতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আর বিক্রেতারা অভিযোগ করেন, উঁচু জায়গায়গুলোতে ক্রেতা থাকলেও পানির মধ্যে খুব একটা আসছে না। ফলে হাঁটু পানিতে থাকা গরুরগুলো আজও অবিক্রিত থাকার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া দীর্ঘ সময় নোংরা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকায় গরুর স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে।
এছাড়া পানি জমে যাওয়ায় পশুকে ঠিকমতো খাবার ও বসার জায়গা দিতে দেয়া যাচ্ছে না। ফলে সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বিক্রেতা উজ্জ্বল মিয়া।
হাটের ইজারাদারদের পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করলেও তা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
অনেক হাটে নোংরা ও কাদা-পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পশুদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে গোবর আর বৃষ্টির পানি মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। ফলে হাটের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে গেছে।
জলাবদ্ধতা ও হাটের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা বিবেচনা করে অনেক ক্রেতাই হাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। অনেকেই হাটে এসেও দূর থেকে পরিবেশ বুঝে ফিরে যাচ্ছেন। মো. বিল্লাল হোসেন নামে এক ক্রেতা জানান, হাটের পরিবেশ বুঝতে এবং দাম কেমন যাচ্ছে তা দেখতে মূলত এসেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আর হাটে ঢোকা হলো না।
তিনি বলেন, ভেবেছিলাম বৃষ্টির কারণে দাম কিছুটা কমতে পারে কিন্তু তেমন কিছু মনে হলো না। সব মিলিয়ে এবার দাম বাড়তি।
তবে শেষ পর্যন্ত দেখতে চান এই ক্রেতা। কথা বলতে বলতেই মোবাইলে খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সরাসরি খামারের। তবে এখনও ঐতিহ্য বজায় রেখে শেষ মুহূর্তে হাট থেকে কিনতেই পছন্দ তার। হাতে এখনও দুদিন বাকি তাই খুব একটা চিন্তা নেই। তবে এর মধ্যে যদি ইন্ডিয়ান গরু পর্যাপ্ত ঢোকে তাহলে দাম কমবে বলে তার আসা।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এদিকে ঈদ যাত্রায় রাস্তায় বাড়ি ফেরা মানুষদের কেউ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃষ্টিতে অনেকের জামা-কাপড় সব ভিজে গেছে। কেউ আবার প্যান্ট গুটিয়ে সাথে থাকা ব্যাগ মাথায় নিয়ে হাঁটু পানিতে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



