মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হামে আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শয্যাসঙ্কটের কারণে শুধু অতি জটিল অবস্থায় থাকা শিশুদেরই ভর্তি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বড়োদের সাধারণ ওয়ার্ডে শয্যা খালি না থাকায় প্রাপ্তবয়স্ক হামের রোগীরাও চিকিৎসা না পেয়ে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী স্বজনেরা।

রোববার (৩১ মে) সকালে মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে রোগীদের স্বজনদের এমন ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে আনার পর শিশুদের অবস্থা ‘অত্যন্ত জটিল’ না হলে তাদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক বা মাঝারি উপসর্গের রোগীদের জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হচ্ছে।
নরসিংদী থেকে আসা এক শিশুর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাচ্চার শরীরে তীব্র জ্বর আর হামের দাগ নিয়ে ভোরে এখানে এসেছি। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, অবস্থা অতোটা জটিল না হলে সিট দেওয়া যাবে না। বাইরে থেকে চিকিৎসা করাতে হবে। এতো দূর থেকে এসে যদি হাসপাতালে ভর্তিই হতে না পারি, তবে যাবো কোথায়?
এদিকে, এবারের হামের প্রকোপে শিশুদের পাশাপাশি অনেক বড়োরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু হাসপাতালে বড়দের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার বলছেন, বড়োদের ওয়ার্ডে কোনো সিট খালি নেই অজুহাতে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, এখন শুধু ছোটরা নয়, বড়োরাও সমানভাবে হামে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে বড়োদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সরকারের উচিত দ্রুত বড়দের সুচিকিৎসার জন্য বিশেষ শয্যার ব্যবস্থা করা।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় শয্যাসঙ্কট তৈরি হয়েছে। ফলে চিকিৎসকেরা বাধ্য হয়ে কেবল গুরুতর ও জটিল রোগীদেরই ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



