
সোমবার রাতে ৩০ রুপি খরচ করে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করেছিলেন পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বাসিন্দা রামকৃষ্ণ। তিনি বলেন, প্রতিদিনই দোকানে আসা মানুষজনকে বলি, আপনার ভাগ্য পরীক্ষা করুন। তবে এবার এক ধাক্কায় নিজেরই ভাগ্যবদল হয়ে গেছে। নিজের লটারির দোকান থাকতে হঠাৎ অন্যের থেকে লটারির টিকিট কিনতে গেলেন কেন? রামকৃষ্ণ বলেন, সোমবার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ মনে হয়েছিল একটা লটারির টিকিট কিনি। তাই ওই টিকিটটা কিনেছিলাম। সোমবার রাতেই রামকৃষ্ণ জানতে পারেন, খামখেয়ালের বশে কেনা সে টিকিটেই তিনি কোটিপতি!
এক মুহূর্তে জীবন বদলে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই খুশির ঢল নেমেছে রামকৃষ্ণের পরিবারে। অথচ সোমবার রাতের আগে সে সংসারে অভাবের অন্ত ছিল না। পাঁচ ভাই, দুইবোন ছাড়াও স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে ভরা সংসার। ৫০ বছর বয়সের রামকৃষ্ণ একদিন কাজে না গেলে হাঁড়ি চড়ে না তাদের সংসারে। সরকারি খাস জমিতে বাড়ি করে সপরিবার বসবাস। কোনও রকমে এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। আর এক মেয়ে আর স্ত্রী-কে নিয়ে একটিমাত্র ঘরে থাকেন। তার মধ্যেই রান্নাবান্না।
স্ত্রী মনা দাস বললেন, বিয়ের পর থেকেই এই একটিমাত্র ঘরে থাকা-খাওয়া, ওঠাবসা। কখনও মেয়েজামাই এ বাড়িতে বেড়াতে এলে আমাদের বাইরে ঘুমোতে হয়। বর্ষাকালে, শীতে খুব কষ্টে পড়তে হয়। এবার তো ভাগ্যবদল! কী করবেন লটারির টাকায়? মনার চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন, একটা ভালো বাড়ি করবো। মনার মতোই স্বপ্নপূরণ হয়েছে রামকৃষ্ণেরও।
কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি বললেন, লটারির ব্যবসা করলেও আমি নিঃস্ব। কয়েক লাখ রুপির ঋণ। তবে এবার সুখের দিন এসেছে। তার পেছনে জগন্নাথের কৃপাও দেখছেন তিনি। রামকৃষ্ণের দাবি, এ টাকা আমাকে জগন্নাথ দিয়েছেন। তবে কোটিপতি হলেও সে টাকায় পায়ের উপর পা তুলে কাটাতে চান না রামকৃষ্ণ। তিনি বলেন, লটারির ব্যবসা ছেড়ে দেব। এবার একটা নতুন টোটো কিনব। টোটো চালিয়েই সংসার চালাবো।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



