দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে হাইতি। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে অপ্রত্যাশিত এক কারণে জার্সির নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে ক্যারিবীয় দেশটিকে। জার্সিতে ব্যবহৃত একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধের চিত্র ফিফার বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক দুটি প্রীতি ম্যাচে হাইতির ফুটবলাররা যে জার্সি পরেছিলেন, সেখানে ১৮০৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ব্যাটল অব ভার্তিয়ের’-এর দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছিল। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ওই যুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায় হাইতি। জার্সিতে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতীকী চিত্রও সংযোজন করা হয়েছিল।
তবে ফিফার সরঞ্জামবিষয়ক নীতিমালায় রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা বহন করতে পারে— এমন কোনো প্রতীক বা বার্তা জার্সি ও অন্যান্য ক্রীড়া সরঞ্জামে ব্যবহারের অনুমতি নেই। সংস্থাটি মনে করেছে, যুদ্ধের ওই দৃশ্যটি বিধিমালার আলোকে বিতর্কিত ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই হাইতিকে জার্সির নকশা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জার্সি প্রস্তুতকারী কলম্বিয়ান ক্রীড়াসামগ্রী প্রতিষ্ঠান সায়েতা জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল হাইতির উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখা সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নকশাটির মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি।
তবে ফিফা নকশার কিছু উপাদানকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করায় তারা সংস্থাটির সিদ্ধান্ত মেনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করেছে বলে জানিয়েছে সায়েতা। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, ফিফার ব্যাখ্যা তাদের মূল ভাবনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলেও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার নির্দেশনাকে তারা সম্মান জানিয়েছে।
আগামী ১৪ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হাইতির বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন Brazil এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল Morocco। এর আগে ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল হাইতিকে। এবার দীর্ঘ বিরতির পর নতুন স্বপ্ন নিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরছে দেশটি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



