গোল করাটা যেন অভ্যাস নয়, আর্লিং হালান্ডের কাছে হয়ে উঠেছিল নিয়ম। প্রতিপক্ষ বদলেছে, মাঠ বদলেছে, টুর্নামেন্ট বদলেছে—কিন্তু নরওয়ের জার্সিতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে নামলেই স্কোরশিটে প্রায় অবধারিতভাবে উঠেছে তার নাম।

অবশেষে থামলেন হালান্ড। টানা ১৪ প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৭ গোলের অবিশ্বাস্য যাত্রার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে গোলহীন থাকলেন নরওয়ের গোলমেশিন।
সময় হিসাব করলে ৬৩৬ দিন পর প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে হালান্ডকে গোলহীন রাখল কোনো দল। আর সেই কাজটাই করে দেখিয়েছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংলিশ রক্ষণভাগের কড়া পাহারায় নিজের চেনা রূপে দেখা যায়নি হালান্ডকে। গোলের জন্য লড়েছেন, জায়গা খুঁজেছেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠাতে পারেননি ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা।
তার গোলহীন থাকার রাতেই থেমে গেছে নরওয়ের স্বপ্নযাত্রাও। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে।
তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও জাতীয় দলের জার্সিতে হালান্ডের সাম্প্রতিক গোলযাত্রা ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে টানা ১৪ প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৭ গোল করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে মূল আসর—নরওয়ের আক্রমণের সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র হয়ে উঠেছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।
২০২৬ বিশ্বকাপেও গোলের ক্ষুধা এতটুকু কমেনি হালান্ডের। সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নিজেকে রেখেছিলেন সামনের সারিতে। তার গোলেই বহু বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে স্বপ্নের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল নরওয়ে।
কিন্তু ফুটবলে সব গল্পেরই কোথাও না কোথাও বিরতি আসে। হালান্ডের গোলের গল্পে সেই বিরতি টেনে দিল ইংল্যান্ড।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
১৪ ম্যাচ, ২৭ গোল, টানা ৬৩৬ দিনের গোলযাত্রা—সংখ্যাগুলোই বলে দেয় নরওয়ের জার্সিতে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন হালান্ড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল পাননি ঠিকই, তবে বিশ্ব ফুটবলকে আরও একবার বুঝিয়ে দিয়েছেন—এই গোলমেশিনকে থামানোই এখন প্রতিপক্ষের জন্য আলাদা এক অর্জন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



