অবৈধ ও ক্লোন ফোন রোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম চালু করেছে। কিন্তু এই সিস্টেম চালুর পর একজন গ্রাহক তার নামে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে অধিক সংখ্যক সিম বা হ্যান্ডসেট নিবন্ধিত দেখতে পাচ্ছেন। এনইআইআর চালুর পর এসব নানা বিষয়ে থাকা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে বিটিআরসি।

বিটিআরসি বলছে, এনইআইআর চালুর পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত বেশ কয়েকটি বিষয় তাদের নজরে এসেছে।
এ বিষয়ে বিটিআরসির বক্তব্য
১. একজন গ্রাহক তার অনুকূলে অনেক অবৈধ/অসংগঠিত আইএমইআই নম্বর দেখতে পাচ্ছেন।
জবাব: বিষয়টি ক্লোন/কপি/ব্যবহৃত/রিফারবিশড মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারের ফলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ ধরনের আইএমইআই যেন ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে না পারে, তা এনইআইআর সিস্টেম চালুকরণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
২. একই এনআইডিতে অধিক সংখ্যক সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা পরিলক্ষিত হওয়া।
জবাব: এনইআইআর সিস্টেমে একজন গ্রাহকের এ যাবতকালের সব ঐতিহাসিক (হিস্টোরিক) তথ্য সংরক্ষিত আছে, তাই এ ধরনের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে। বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে কাজ করছে, যেন একজন গ্রাহক শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের তথ্য দেখতে পারেন। আশা করা যাচ্ছে, ক্রমান্বয়ে এ ধরনের সমস্যা কমে আসবে।
৩. এনইআইআর চালুর পর সিটিজেন পোর্টালে নিবন্ধনের সময় মোবাইল অপারেটর থেকে ওটিপি আসতে কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে।
জবাব: স্বল্প সময়ে অনেক রেজিস্ট্রেশন অনুরোধ আসার ফলে কিছু গ্রাহক এই বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছেন। এটি মোবাইল অপারেটরদের ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার ব্যবস্থাপনার অংশ। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট সব মোবাইল অপারেটরকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে।
৪. অনেক গ্রাহক তাদের তথ্যের নিরাপত্তা অর্থাৎ তথ্য চুরি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
জবাব: এ ক্ষেত্রে বিটিআরসি সবাইকে আশ্বস্ত করছে যে, সকল গ্রাহকের তথ্য নিরাপদ রয়েছে।
একজন গ্রাহক কেবল তার নিজস্ব তথ্যই দেখতে পারবেন, অন্য কেউ তা দেখতে পারবেন না।
সর্বোপরি, এনইআইআর চালুর পর একসঙ্গে অধিক সংখ্যক গ্রাহকের জিজ্ঞাসা আসায় যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুতই সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া গ্রাহকের যেকোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার অথবা বিটিআরসির হটলাইন নম্বর ‘১০০’-তে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ে সমস্যা সমাধান করা হবে।
গ্রাহক স্বার্থে এনইআইআর সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য
মোবাইল হ্যান্ডসেটের অবৈধ আমদানি ও ব্যবহার, হ্যান্ডসেট চুরি ও অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং সরকারের রাজস্ব নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিটিআরসি সব কার্যকারিতাসহ ১ জানুয়ারি এনইআইআর সিস্টেম চালু করে। সিস্টেমটি চালুর পর মোবাইল হ্যান্ডসেটের খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এনইআইআর সিস্টেম চালুর পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিটিআরসির কার্যালয়ে একাধিকবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় ব্যবসায়িক কমিউনিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
দাবি–১: মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির শুল্কহার হ্রাস করতে হবে।
পদক্ষেপ: গত এক বছরেরও বেশি সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির পক্ষ থেকে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একাধিকবার আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মোবাইল হ্যান্ডসেটের শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। আগে যেখানে আমদানিতে প্রায় ৬১ শতাংশ শুল্ক ছিল, বর্তমানে তা কমিয়ে প্রায় ৪৩ শতাংশ করা হয়েছে।
দাবি–২: মোবাইল ফোন আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।
পদক্ষেপ: বিটিআরসি জানিয়েছে, মোবাইল ফোন আমদানির বর্তমান প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র দাখিলের শর্ত শিথিল করা হবে। স্বল্প সময়ের মধ্যে ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সনদ প্রদান করা হবে। অরিজিনাল উৎপাদনকারীর সার্টিফিকেটের পরিবর্তে যেকোনো অথরাইজড ডিলারের ডকুমেন্টস দাখিল সাপেক্ষে হ্যান্ডসেট আমদানি করা যাবে। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে ন্যূনতম এই সনদ প্রয়োজন।
দাবি–৩: বর্তমানে অবিক্রিত/স্থিত হ্যান্ডসেটগুলোকে নেটওয়ার্কে আত্তীকরণ করতে হবে।
পদক্ষেপ: নামমাত্র শুল্ক প্রদান করে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই অবিক্রিত বা মজুত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা হবে। এমনকি যেসব হ্যান্ডসেটের আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে, সেগুলোকেও নেটওয়ার্কে আত্তীকরণ করা হবে।
দাবি–৪: পুরনো মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির অনুমতি দিতে হবে।
বিটিআরসির জবাব: পুরনো হ্যান্ডসেট আমদানির অনুমোদন বিটিআরসির আওতাভুক্ত নয়। এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পুরনো পণ্য আমদানির তালিকায় মোবাইল হ্যান্ডসেট অন্তর্ভুক্ত নয়। মোবাইল হ্যান্ডসেটের মানের ওপর সেবার গুণগত মান নির্ভর করে। পুরনো হ্যান্ডসেটের মান যাচাই করা কঠিন হওয়ায় গ্রাহক প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সূত্র : বাংলানিউজ২৪
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


