শেয়ার বিক্রি করে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় ফেরত নিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আর বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমতি নিতে হবে না। ডিলার ব্যাংকই প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে অর্থ পাঠাতে পারবে। আগে এর সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সোমবার এক মাস্টার সার্কুলার জারি করে নীতিগত ছাড় প্রদানের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ ছাড় মিলবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রাইভেট বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
অবশ্য এ সুবিধা নিতে বাংলাদেশের ব্যাংক কিছু শর্ত দিয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি শেয়ার বিক্রির অর্থ ফেরত নিতে চাইলে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সমঝোতা চুক্তি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতি শেয়ারের বিক্রয় মূল্য কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্যের (এনএভি) বেশি মূল্যে হতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শেয়ার বিক্রির অর্থ দেশে আটকে থাকার ঝুঁকি কমিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে এ নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন প্রক্রিয়াও সরলীকরণ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশি থেকে বিদেশি বা বিদেশি থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়াই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে, যদি তা ন্যায্য মূল্যের ভিত্তিতে হয়। তবে ১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
৪৫ দিনের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তর
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, শেয়ার বিক্রির জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এছাড়া কোনো অসংগতি না থাকলে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে শেয়ার বিক্রির অর্থ বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদি শেয়ার হস্তান্তরের চুক্তিমূল্য ১ কোটি টাকা বা এর সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বেশি না হয়, তবে কোনো স্বতন্ত্র মূল্যায়ন রিপোর্টের প্রয়োজন হবে না। এক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার যৌথ ঘোষণা বা বিবৃতিই যথেষ্ট হবে।
দ্রুত অর্থ ছাড়
নথিপত্রে কোনো অসংগতি না থাকলে ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বিক্রির অর্থ প্রেরণের আবেদন পাওয়ার ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। যদি কোনো কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে, তাহলে গ্রাহকের আবেদন পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় নথি পাঠাতে হবে।
মূল্যায়ন পদ্ধতি
শেয়ারের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের জন্য নিট সম্পদ মূল্য পদ্ধতি, বাজার দর পদ্ধতি এবং ‘ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো’ পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া ডিলার ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বিক্রির আবেদন যাচাইয়ের জন্য নিজস্ব কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিনিয়োগ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং সহজ হওয়ার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই সার্কুলার জারির ফলে পূর্ববর্তী এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। এ নীতিগত ছাড়ের ফলে বিদেশি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


