কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যেখানে আগে ১ হাজার ৩০০ টাকায় একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যেত, সেখানে এখন ২ হাজার টাকা দিয়েও গ্যাস মিলছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও ভৈরব শহরে ১২৫০ থেকে ১৩৫০ টাকার মধ্যে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হতো। তবে বর্তমানে বাজারে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। যদিও ডিলাররা দাবি করছেন, তারা বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন না। তাদের অভিযোগ, খুচরা বিক্রেতারাই গোপনে মজুত করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভৈরব শহরের বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন রেস্তোরাঁর মালিকরা প্রয়োজনীয় গ্যাস কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছেন। তবে প্রায় সব ডিলারই জানাচ্ছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো তাদের কাছে কোনো গ্যাস সরবরাহ করছে না। ফলে তাদের মজুত একেবারেই শূন্য।
অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, কিছু খুচরা বিক্রেতা গোপনে গ্যাস মজুত করে প্রতি সিলিন্ডার এলপি গ্যাস ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
ভৈরব শহরের আদিয়ান রেস্টুরেন্টের মালিক মো. কাজল মিয়া জানান, তার রেস্টুরেন্টে প্রতি মাসে প্রায় ৮টি গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। আগে প্রতিটি সিলিন্ডার ১৩৫০ টাকায় কিনলেও এখন বাধ্য হয়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন চায়ের দোকানদার নিজামুল। তিনি বলেন, খাবারের দাম বাড়ানো সম্ভব না হলেও এলপি গ্যাস কিনতে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ বিষয়ে সরকারি কোনো তদারকি চোখে পড়ছে না।
ভৈরব শহরের বাসিন্দা আবদুর রশিদ বলেন, তিনি স্বল্প আয়ের মানুষ এবং রান্নার জন্য পুরোপুরি এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস না পাওয়ায় পরিবারের রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে গ্রাম থেকে আসা জমির হোসেনও কোথাও গ্যাস না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, তিনি ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে ২ হাজার টাকায় একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন। তবে বিক্রেতা তাকে শর্ত দেন—বাড়তি দামের কথা কাউকে জানানো যাবে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় পদ্মা কোম্পানির এলপি গ্যাস ডিলার মো. খলিলুর রহমান বলেন, কোম্পানিতে অগ্রিম টাকা জমা দেওয়ার পরও গত দুই সপ্তাহ ধরে তারা কোনো গ্যাস পাচ্ছেন না। তার দোকানে বর্তমানে কোনো মজুত নেই। কে বা কারা বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
ডেলটা কোম্পানির ডিলার জিল্লুর রহমানও একই অভিযোগ করে জানান, প্রায় ২০ দিন আগে টাকা জমা দেওয়ার পরও এখনো কোম্পানি থেকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায়নি। গোপনে মজুত করে যারা অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে, তাদের বিষয়ে তার কোনো তথ্য নেই।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


