চৈত্রের শেষ ভাগে এসে আগুনের হলকা বইছে প্রকৃতিতে। ঝাঁজালো রোদ আর ভ্যাপসা গরমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১৫ জেলায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

weather

Advertisement

গতকাল শনিবার সংস্থাটি জানায়, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও পটুয়াখালীসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় তাপপ্রবাহ চলছে। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

যখন কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। তাপপ্রবাহের মাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর কোনো এলাকায় ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে গেলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি হয়ে গেলে তখন তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান তাপপ্রবাহ আরও দুদিন থাকতে পারে। তবে ৬ এপ্রিলের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।’ এর আগে পর্যন্ত তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। তবে ২০২৪ সালে দেশে যতটা গরম পড়েছিল বা যেভাবে টানা ৩৬ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলেছিল, এবার তা নাও হতে পারে।

এপ্রিল মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। এ ছাড়া এই মাসে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে। অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, এবারের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা তার কাছাকাছি থাকলেও গরমের তীব্র অনুভূতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (খুলনা বিভাগ), ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ বেশি হতে পারে।

তিনি বলেন, চলতি মাসে একাধিক বজ্রঝড়ের আশঙ্কা আছে। তেমনটা হলে তীব্র গরম পড়লেও তা প্রশমিত হয়ে যেতে পারে। আবার নতুন করে গরম পড়তে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ থাকবে, এ আশঙ্কা কম।

গতকাল রাজধানী ঢাকাতেও ছিল গরমের তীব্রতা। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোদ আর গরমে হাঁসফাঁস করেছেন পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে, ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিলেটে সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় ভ্যাপসা গরমে বাড়ছে দুর্ভোগ
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গায় টানা দুই দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। মাঝারি তাপপ্রবাহের সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল থেকেই তীব্র রোদে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে জনপদ। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই।

জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন শ্রমজীবী মানুষ। খুব প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘গরমে চলতি পারছি না। ভাড়াও নেই। এই রোদে কেমনে চলব? বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি, খামু কী?’

সিএনজিচালক কেরামত আলী বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই মনে হয় কড়ার ওপর বসে আছি। যাত্রীও কম। তাই বাসস্ট্যান্ডে বসে ঠান্ডা কিছু খেয়ে সময় কাটাইতেছি।’
কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, ভোরে জমিতে কাজ শুরু করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র রোদে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ‘ভুট্টার জমিতে কাজ করছিলাম। কিন্তু রোদে হাঁপিয়ে উঠেছি, তাই বাড়ি ফিরতে হয়েছে,’ বলেন তিনি।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

অন্যদিকে গরমে ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা বেড়েছে। শরবত বিক্রেতা নওশাদ আলী বলেন, ‘লেবুর শরবতের বিক্রি বেড়েছে। মানুষ গরম থেকে বাঁচতে বেশি করে খাচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, শনিবার বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৬ শতাংশ। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.