একসময় বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী করপোরেট সাম্রাজ্য ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। প্রায় ১৭০ বছর আগে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক কোম্পানিটির কার্যক্রম থেমে যায়। এবার একই নামে গড়ে ওঠা আধুনিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডটিও দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেল।

ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এই করপোরেট সাম্রাজ্য প্রায় ১৫২ বছর আগে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। পরে ২০১০ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের স্বত্ব কিনে নিয়ে লন্ডনে এ কোম্পানিকে বিলাসপণ্যের খুচরা ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করেন।
ভারত টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনে বিলাসপণ্য বিক্রির ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত হওয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড ২০২৫ সালের অক্টোবরে লিকুইডেশনে যায়। প্রতিষ্ঠানটির দেনা দাঁড়ায় প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার ইউরোর বেশি। এর মধ্যে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত মূল কোম্পানির কাছে ৬ লাখ ইউরোর বেশি, বকেয়া কর প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ইউরো এবং কর্মীদের পাওনা প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ইউরো।
লন্ডনের মেফেয়ারের ৯৭ নিউ বন্ড স্ট্রিটে অবস্থিত তাদের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি বর্তমানে বন্ধ এবং ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কোম্পানির ওয়েবসাইটও অচল।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ সরকারের হাতে যায়। ১৮৫৮ সালে ভারতবর্ষে সরাসরি ব্রিটিশ রাজের শাসন শুরু হয়। ব্যাপক শোষণ আর লুটপাটের কারণে ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইতিহাসের কুখ্যাত এক নাম।
ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক অভিযাত্রায় এ কোম্পানি বিশ্ব বাণিজ্যের ধরণই বদলে দিয়েছিল। কিন্তু নিপীড়ন আর দুর্ভিক্ষের মত ঘটনায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ভারতীয়দের জন্য নিয়ে আসে বিপুল দুর্ভোগ। বাংলার দুর্ভিক্ষে প্রায় তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।
২০১০ সালে একজন ভারতীয় উদ্যোক্তা যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের স্বত্ব কিনে নিলেন, তখন অনেকেই একে সেই ঔপনিবেশিক অপশাসনের প্রতিশোধ হিসেবে দেখেছিলেন। যে কোম্পানি একসময় ভারত শাসন করেছিল, সেই কোম্পানি এখন একজন ভারতীয়র মালিকানায়- এ বিষয়টি সে সময় বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছিল।
কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধুনিক সংস্করণও শেষ পর্যন্ত ব্যবসায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হল।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের স্বত্ব কেনার চেষ্টা শুরু করেন একবিংশ শতকের শুরুর দিকে। ২০১০ সালে মেফেয়ারে ২ হাজার বর্গফুটের একটি দোকানে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নবজন্ম দেন। সেখানে উঁচুমানের চা, চকলেট, মিষ্টান্ন, মসলা ও অন্যান্য দামি পণ্য বিক্রি হত।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রানি প্রথম এলিজাবেথের জারি করা ফরমানের মাধ্যমে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তখন ইস্ট ইন্ডিজ বলা হত। এই অঞ্চল থেকে মসলা ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য করতে একটি জয়েন্ট স্টক ট্রেডিং ফার্ম হিসেবে এ কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়। এটি ছিল বিশ্বের প্রথমদিককার জয়েন্ট স্টক ট্রেডিং ফার্ম, যেখানে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি করতে পারতেন। সূত্র: এনডিটিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


