গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সৌরঝড়ের প্রভাবে পড়তে যাচ্ছে পৃথিবী। সূর্য থেকে নির্গত এই তীব্র সৌর বিকিরণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর প্রভাব পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের অধীন স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার (এসডব্লিউপিসি)।

সংস্থাটি সৌরঝড়টির তীব্রতা পাঁচ ধাপের স্কেলে চার নম্বর হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা ‘এস৪’ বা গুরুতর স্তরের সৌরঝড় হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড়ের প্রভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সৌরঝড়ের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে চোখধাঁধানো মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চল ছাড়াও দক্ষিণে আলাবামা ও পশ্চিমে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত অরোরার দেখা মিলতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই সৌরঝড় কিছু ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ঝড়ের প্রভাবে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জিপিএস সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত মহাকাশচারীরা অতিরিক্ত বিকিরণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। মেরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে চলাচলকারী বিমানযাত্রীদের ক্ষেত্রেও বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়তে পারে।
এর আগে ২০০৩ সালের অক্টোবরে ‘হ্যালোইন স্পেস ওয়েদার স্টর্ম’ নামে পরিচিত একই মাত্রার একটি সৌরঝড় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ওই ঝড়ে সুইডেনে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এদিকে একই সময়ে সূর্যের করোনা থেকে ছিটকে আসা প্লাজমার কারণে পৃথিবীতে একটি শক্তিশালী ভূচৌম্বকীয় ঝড়ও আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে আরও বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


