ঠাকুরগাঁওয়ের নীলকান্ত-গীতা দম্পতির গল্প আমাদের শেখায়—ভালোবাসার মাপ কেবল শারীরিক গড়ন বা সামাজিক অবস্থান নয়। শৈশব থেকেই কটু কথা শুনে বড় হয়েছেন নীলকান্ত। খাটো উচ্চতার কারণে অনেকেই তাকে ভিন্ন চোখে দেখতেন, এবং মানুষের ভিড়ের মধ্যেও তার নিঃসঙ্গতা ছিল স্পষ্ট। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মন্তব্যের আঘাত সহ্য করেও তিনি থেমে থাকেননি।

পরিবার ও বাস্তব সমস্যার কারণে এসএসসি পরীক্ষা দিতে না পারলেও জীবনযুদ্ধ থেমে যায়নি। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তিনি খুঁজে নেন টিকে থাকার শক্তি। তখনই জীবনে আসে নতুন আলো—গীতা রাণী। একই উচ্চতা, একই জীবনসংগ্রাম এবং মানসিক মিল তাদের কাছে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আসে। পরিচয় থেকে জন্ম নেয় বন্ধুত্ব, তারপর ভালোবাসা, এবং কয়েক মাস একে অপরকে জানার পর তারা বিয়ে করেন।
তাদের সংসার জীবনের বয়স এখন ২৫ বছর। এই দীর্ঘ সময় তারা একসঙ্গে সুখ-দুঃখ, অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন। তাদের একমাত্র মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন ইতিমধ্যে। অভাব ও কষ্ট থাকা সত্ত্বেও তারা একে অপরকে ছেড়ে যাওয়ার কথা কখনো ভাবেননি। বরং প্রতিটি কঠিন সময়ে একে অপরের শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
নীলকান্ত বলেন, “ছোটবেলা থেকে অনেক কথা শুনেছি, কিন্তু গীতাকে পাশে পাওয়ার পর মনে হয়েছে আমি একা নই। জীবনের যত কষ্টই আসুক, একসঙ্গে থাকলে সবকিছু সহজ মনে হয়।”
গীতা রাণী বলেন, “আমাদের জীবনে অনেক অভাব ছিল, কিন্তু আমরা কখনো একে অপরকে দোষ দিইনি। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মানে শুধু সুখ নয়—দুঃখও একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের জীবনযাত্রা অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষিকা সাবিত্রী রাণী বলেন, “তাদের ভালোবাসা ও বোঝাপড়া অনেক বড়। আমরা কখনো তাদের সংসারে বড় কোনো ঝামেলা দেখিনি। তারা সত্যিই একে অপরের পরিপূরক।”
সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু নীলকান্ত-গীতার সম্পর্কের দৃঢ়তা অটুট। ২৫ বছরের পথচলায় তারা প্রমাণ করেছেন—দাম্পত্যের মূল শক্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সমাজের চোখে তারা হয়তো ভিন্ন, কিন্তু একে অপরের চোখে তারা পরিপূর্ণ।
এই দম্পতির গল্প মনে করিয়ে দেয়—সত্যিকারের ভালোবাসা হলো জীবনের ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার নাম।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

