দিনাজপুরের হিলিতে এক লিটার তেলের আশায় সড়কের ওপর রাতযাপন করেছেন শত শত মানুষ। গতকাল সোমবার সকালে হিলি ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও সিরিয়াল পেতে রোববার এশার নামাজের পর থেকেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। মাত্র ৩০০ টাকার তেলের জন্য শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ উপস্থিতি হন ফিলিং স্টেশনে। তাদরে পোহাতে হয়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাখা হয়েছে এক হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল। প্রতিটি বাইকের জন্য বরাদ্দ সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল। এই তেলের জন্য সড়কের ওপর মাদুর পেতে রাতভর অবস্থান করেছেন চালকরা। অনেকে মোটরসাইকেল পাহারা দিতে সড়কের ওপরই বিছানা পেতেছেন, আবার কেউ কেউ রাতে খিচুড়ি রান্না করে সেখানেই খেয়েছেন। তবে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হতে হয়েছে তাদের।
স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, তেলের এই তীব্র সংকটে হিলির কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এই ভোগান্তি আরও দীর্ঘ হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আলীহাট গাজী আমিনিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান সমকাল প্রতিবেদককে জানান, তাঁর বাড়ি পার্শ্ববর্তী ঘোড়াঘাট উপজেলায়। প্রতিদিন ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁকে মাদ্রাসায় আসতে হয়। গত কয়েক দিন তেল না থাকায় তিনি চরম বিপাকে পড়েন। গতকাল সোমবার সকালের তেল পেতে তিনি রোববার রাতেই পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়ান। সারারাত রাস্তায় মাদুর পেতে ঘুমিয়ে সোমবার বেলা ১১টায় মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছেন তিনি। তাঁর মতো ওই মাদ্রাসার আরও অনেক শিক্ষক তেল নিতে এসে সারাদিন পার করে দিয়েছেন। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
তেল নিতে আসা আসলাম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাতে মশার কামড়ে ঘুমাতে পারিনি। এত কষ্ট করেও চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না। ৫০০ টাকার তেল দিলে অন্তত কয়েক দিন চলা যেত।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্যাগ অফিসারের অদক্ষতার কারণে কেউ কেউ পরে এসেও আগে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএন্ও) অশোক বিক্রম চাকমা জানান, হিলি ফিলিং স্টেশনের জন্য তিন হাজার লিটার তেল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি মোটরসাইকেলকে ৩০০ টাকার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে আরও একবার তেল সরবরাহের আশ্বাস দেন তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


