বহির্নোঙরে খাদ্যপণ্য নিয়ে ৪০ দিনের বেশি অপেক্ষা করায় ১৩টি জাহাজকে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নৌ অধিদপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
শফিউল বারী বলেন, আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যসহ জরুরি পণ্য দ্রুত আনলোড করতে নজরদারি করা হচ্ছে। এর ফলে নদী বা সমুদ্রে বহির্নোঙরে খাদ্য বোঝাই লাইটার জাহাজ অতিরিক্ত সময় অবস্থান করছে না।
২০ দিনের বেশি কোনো খাদ্য বোঝাই জাহাজ দেখলেই, সেই জাহাজকে সতর্ক করা হচ্ছে। তারপর ওই লাইটার জাহাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পণ্য বোঝাই করে সাগর বা নদী বন্দরে লাইটার জাহাজ অতিরিক্ত সময় যাতে অবস্থান না করে, এজন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই টাস্কফোর্সকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং যশোরের নোয়াপাড়ার ভৈরব নদীতে এই টাস্কফোর্স নিয়মিত কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে। গত ১৭ দিনে টাস্কফোর্স কর্তৃক মোট ৪০৯টি লাইটার জাহাজ নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০দিনের কম অপেক্ষারত জাহাজের সংখ্যা ২৯২টি, ১০ দিনের বেশি অপেক্ষারত জাহাজের সংখ্যা ৮৭টি এবং ২০ দিনের বেশি অপেক্ষারত জাহাজের সংখ্যা ৩০টি।
তিনি বলেন, রোববার দেশের বিভিন্ন নদীবন্দর পরিদর্শন করে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা থেকে শুরু করে যশোরের নোয়াপাড়া পর্যন্ত প্রতিটি ঘাটে দ্রুততার সাথে পণ্য খালাস চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) সূত্রে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, গত ১৫ দিনে ৭৩৫টি লাইটার জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সনাতনী পদ্ধতিতে জাহাজ আনলোড করা হয়। এর ফলে একটি জাহাজ আনলোড করতে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লেগে যায় উল্লেখ করে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, লাইটার জাহাজের জোগান বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত মাদার ভেসেলগুলোর পণ্য খালাসের গতি বেড়েছে। ঘাটসমূহে স্বয়ংক্রিয় ক্রেনের মাধ্যমে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ-কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পণ্য খালাস করা সম্ভব হলে জাহাজের আনলোডিং টাইম আরও কমে আসবে।


