প্রায় ৪০ মিনিটের নিঃশব্দ উৎকণ্ঠার পর আবার পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে আর্টেমিস–২ মিশনের মহাকাশযান ‘ওরিয়ন’। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চাঁদের আড়াল পেরিয়ে মহাকাশযানটি আবার সংকেত পাঠাতে শুরু করে, আর তাতেই স্বস্তি ফিরে আসে নাসার মিশন কন্ট্রোল কক্ষে।

প্রথমে প্রকৌশলীদের মনিটরে বেতার সংকেত ফিরে আসে। এরপর আসে জমে থাকা তথ্য, আর সবশেষে শোনা যায় মহাকাশযানের ভেতর থেকে স্পষ্ট কণ্ঠস্বর। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কক বলেন, ‘হিউস্টন, ইন্টেগ্রিটি, যোগাযোগ পরীক্ষা।’ এরপর তিনি জানান, ‘পৃথিবীর কণ্ঠ আবার শুনতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
এই ৪০ মিনিটে মহাকাশযানটিকে নিজ দায়িত্বেই চলতে হয়েছে। চাঁদের দূর পাশে অবস্থানকালে পৃথিবী থেকে কিছুই দেখা বা শোনা সম্ভব ছিল না। ওই সময় ওরিয়নের নিজস্ব কম্পিউটার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে—ইঞ্জিন চালু করে মহাকাশযানটিকে পৃথিবীতে ফেরার পথে ঘুরিয়ে দেয়।
মানব মহাকাশ অভিযানে সব সময়ই একটি ছোট অনিশ্চয়তা থাকে, যতক্ষণ না নভোচারীদের কণ্ঠ আবার শোনা যায়। তাই যোগাযোগ ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে মিশন কন্ট্রোল এবং নভোচারীদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ে।
এখন চাঁদের দূর পাশ থেকে ধারণ করা জমে থাকা সব তথ্য ও ছবি ধীরে ধীরে পৃথিবীতে পাঠানো হবে। নাসার গভীর মহাকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা দিয়ে এসব তথ্য বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের কাছে পৌঁছাবে। আগামী কয়েক দিনে তারা সেগুলো বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করবেন।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া ছোট আকারের ছবিগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদের অদেখা পাশের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত কিছু দৃশ্য এতে রয়েছে।
তবে নভোচারীদের জন্য স্বস্তির এই মুহূর্ত উপভোগ করার খুব বেশি সময় নেই। কারণ তাদের সামনে এখন পৃথিবীতে নিরাপদে ফেরার আরও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অপেক্ষা করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


