মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরান সীমান্তে নিজের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকে ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তনই বর্তমান পরিস্থিতির সর্বোত্তম সমাধান হতে পারে। তাই মার্কিন প্রশাসন সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো যাচাই করছে। ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগ দিতে জেরাল্ড আর ফোর্ড দ্রুতগতিতে গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছে। এটি সেখানে পৌঁছাতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় নিতে পারে।
বিশালাকার এই রণতরী আধুনিক নৌ-প্রকৌশলের এক বিস্ময়। প্রায় ৩৩৭ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজকে ‘সমুদ্রের বুকে ভাসমান চারটি ফুটবল মাঠ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ২০১৭ সালে কমিশন প্রাপ্ত এই রণতরী মূলত স্বয়ংসম্পূর্ণ নৌ-শহর হিসেবে কাজ করে। এর ভেতরে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি সেনার থাকার, খাওয়ার, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
পারমাণবিক শক্তিচালিত এই রণতরীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অফুরন্ত শক্তি। দু’টি শক্তিশালী এ১বি (A1B) নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ব্যবহারের কারণে এটি জ্বালানির প্রয়োজন ছাড়াই দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে সক্ষম। এই শক্তি ব্যবহার করে জাহাজটি সমুদ্রে নোনা জল থেকে পানযোগ্য পানি এবং বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা একটি ছোট শহরের চাহিদার সমান।4
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেরাল্ড আর ফোর্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর উন্নত বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ প্রযুক্তি। পুরনো স্টিম ক্যাটাপল্টের পরিবর্তে এতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম। এর ফলে জাহাজটি একসাথে অনেকগুলো যুদ্ধবিমান দ্রুত উড্ডয়ন এবং নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম।
এই রণতরীতে ৬০–৭৫টি অত্যাধুনিক বিমান বহন করা সম্ভব, যার মধ্যে রয়েছে এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট, ই-২ডি হকআই এবং এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার। সাধারণ রণতরী দিনে গড়ে ১২০টি বিমান উড্ডয়ন করলেও জেরাল্ড আর ফোর্ড জরুরি অবস্থায় দিনে সর্বোচ্চ ২৭০টি বিমান আকাশে পাঠাতে সক্ষম।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


