বর্তমান এ ডিজিটাল যুগে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকার নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার না করাই ভালো। দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে একেবারেই স্ক্রিন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে পরিবার বা অভিভাবকের সঙ্গে একসঙ্গে কিছু ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রম এ পরামর্শের ব্যতিক্রম হতে পারে।

এই নির্দেশনা প্রণয়ন করেছে শিশুবিষয়ক কমিশনার র্যাচেল ডি সুজার নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল, যেখানে ছিলেন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রাসেল ভিনার।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেছেন, এই নির্দেশনা অভিভাবকদের জন্য সহায়ক হবে এবং শিশুদের নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে। তার মতে, বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালন করা কঠিন হয়ে উঠেছে, কারণ চারপাশে স্ক্রিনের প্রভাব অনেক বেশি এবং সঠিক পরামর্শও সবসময় স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, সরকার অভিভাবকদের এই চ্যালেঞ্জে একা ফেলে দেবে না এবং শিশুদের সুস্থ অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
কী বলা হয়েছে নতুন নির্দেশনায়
দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সম্ভব হলে এর চেয়েও কম রাখাই ভালো।
এ ছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে –
- দ্রুতগতির ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া ধরনের কনটেন্ট এড়িয়ে চলা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর খেলনা বা অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকা
- খাবারের সময় ও ঘুমের আগে স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা
- এর পরিবর্তে গল্প শোনা, ছবি আঁকা, টেবিল গেম বা হালকা সংগীতের মতো কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়া
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সঙ্গে বসে স্ক্রিন দেখা এবং সেই বিষয় নিয়ে কথা বলা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একা স্ক্রিন ব্যবহারের চেয়ে এটি বেশি উপকারী।
স্ক্রিনের প্রভাব কতটা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশু দুই বছর বয়সেই নিয়মিত স্ক্রিন ব্যবহার শুরু করে। যেসব শিশু বেশি সময় স্ক্রিনে থাকে, তাদের ভাষা শেখার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় একা স্ক্রিনে থাকলে শিশুদের ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম, সৃজনশীল খেলা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। এগুলো শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম একভাবে প্রযোজ্য নয়। যারা স্ক্রিনভিত্তিক সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাদের জন্য আলাদা বিবেচনা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, অভিভাবকদের নিজেদের স্ক্রিন ব্যবহারের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। কারণ শিশুরা বড়দের দেখেই অভ্যাস গড়ে তোলে। তাই পরিবারে নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিনমুক্ত রাখা ভালো।
মাইক ম্যাককিন, যিনি রয়্যাল কলেজ অফ পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের নীতিনির্ধারণ বিভাগের সহ-সভাপতি, বলেন ছোট বয়সের সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শিশুদের জন্য স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ছোট বয়সে স্ক্রিনের প্রভাব বেশি হওয়ায় সচেতনতা জরুরি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
অভিভাবকদের জন্য মূল বিষয় হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা, কথা বলা, গল্প শোনা এবং পারিবারিক সময়কে গুরুত্ব দিলে তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


