চার বছর পর নতুন প্রাণীর আগমনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায়। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছে দুটি পুরুষ ব্লু ওয়াইল্ডবিস্ট এবং এক জোড়া কমন ইল্যান্ড, যা প্রাণীপ্রেমীদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীগুলো ক্রয়, পরিবহন এবং বাংলাদেশে পৌঁছানো পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯২২ টাকা। গত ২৩ জুন আকাশপথে ঢাকায় আনা এসব প্রাণী বর্তমানে পর্যবেক্ষণের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পশ্চিম পাশে জিরাফ এনক্লোজার এলাকায় কমন ইল্যান্ডকে ‘এল-১৬’ এবং ওয়াইল্ডবিস্টকে ‘এল-২২’ নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে। চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ডা. মো. শাহিনুর আলম জানান, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে প্রাণীগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছে এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিড়িয়াখানায় আগে থেকেই দুটি স্ত্রী ওয়াইল্ডবিস্ট ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীহীন থাকা ওই প্রাণীগুলোর জন্যই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এক বছরের বেশি বয়সী দুটি পুরুষ ওয়াইল্ডবিস্ট আনা হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, কয়েক মাসের মধ্যে প্রাণীগুলো পরিপক্ব হলে তাদের পুরোনো সদস্যদের সঙ্গে একত্রে রাখা হবে।
আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলের পরিচিত তৃণভোজী প্রাণী ওয়াইল্ডবিস্ট শক্তিশালী গঠন ও দলবদ্ধ জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে কমন ইল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম অ্যান্টেলোপ প্রজাতিগুলোর অন্যতম। বিশাল দেহাকৃতি ও আকর্ষণীয় শিংয়ের কারণে প্রাণীটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়।
চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, অতীতে জাতীয় চিড়িয়াখানায় কমন ইল্যান্ড থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এ প্রজাতির কোনো প্রাণী ছিল না। নতুন করে এক জোড়া কমন ইল্যান্ড যুক্ত হওয়ায় প্রজাতিটি আবারও চিড়িয়াখানার সংগ্রহে ফিরে এসেছে।
বর্তমানে প্রাণীগুলোকে ভুসি, ছোলার ডাল, ভুট্টা, কাঁচা ঘাস এবং পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার যেখান থেকে প্রাণীগুলো আনা হয়েছে, সেখানকার আবহাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটাই মিল থাকায় অভিযোজন নিয়ে বড় ধরনের কোনো শঙ্কা নেই।
নতুন পরিবেশে প্রাণীগুলোর মানসিক চাপ কমাতে আপাতত দর্শনার্থীদের দৃষ্টির বাইরে রাখা হয়েছে। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে এনক্লোজার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
প্রাণীগুলো আমদানি করেছে ‘দ্য থুলকন ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যারা দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণী সরবরাহ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল আহমেদ জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রাণীগুলো বাংলাদেশে আনতে প্রায় দুই দিন সময় লেগেছে। বর্তমানে ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইন মেয়াদে প্রাণীগুলো তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রাণীগুলোর জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কিছু পরিচিত খাবার আনা হলেও ধীরে ধীরে দেশীয় ঘাস ও পুষ্টিকর ‘পিলেট’ খাদ্যের সঙ্গে অভ্যস্ত করে তোলা হচ্ছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সঙ্গীহীন প্রাণীদের জোড়া মেলানো এবং দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে নতুন প্রাণী সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি প্রাণী সংগ্রহ মহাপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



