হার্ট ফেইলিউরের কথা শুনলেই অনেকের মধ্যে ভয় কাজ করে। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক সময় নীরবে শরীরে ঢুকে পড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট বা সামান্য কসরতেও হঠাৎ হার্ট দ্রুত ধমকানো—এগুলোকে আমরা প্রাথমিকভাবে সাধারণ বিষয় ভেবে উপেক্ষা করি। তবে পা বা গোড়ালি ফোলা, শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত হৃদ্স্পন্দন হঠাৎ দেখা দিলে তা বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সহজ পরীক্ষা—‘৫ সেকেন্ড লেগ টেস্ট’—নিয়ে আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, এটি হার্ট ফেইলিউরের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। আসুন জেনে নিই, এটি কী এবং কতটা কার্যকর।

হার্ট ফেইলিউর কী?
হার্ট ফেইলিউর মানে হার্ট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এমন নয়। এটি হলো হৃদ্যন্ত্রের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যাওয়া। ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পা, গোড়ালি ও পায়ের পাতায় অতিরিক্ত তরল জমতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে এই ফোলা আরও স্পষ্ট হয়।
৫ সেকেন্ড লেগ টেস্ট কীভাবে করবেন?
এটি একটি সহজ ঘরোয়া পরীক্ষা, যা নিজেই করা সম্ভব:
-আরাম করে বসুন বা শুয়ে পড়ুন।
-একটি পা হৃদ্যন্ত্রের উচ্চতায় তুলে ধরুন।
-প্রায় ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন।
এরপর পা নামিয়ে লক্ষ্য করুন:
যদি পা নামানোর সঙ্গে সঙ্গে গোড়ালি বা পায়ের ফোলা দ্রুত ফিরে আসে, তবে এটি শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার ইঙ্গিত হতে পারে।
সুস্থ রক্ত সঞ্চালন থাকলে সাধারণত ফোলা এমন দ্রুত ফিরে আসে না।
আরেকটি পদ্ধতি হলো গোড়ালি বা শিনের ওপর আঙুল দিয়ে ৫ সেকেন্ড চাপ দেওয়া। আঙুল তুলে নিলে যদি চামড়ায় গর্তের মতো দাগ থেকে যায়, এটি ‘পিটিং ওডিমা’ নামে পরিচিত। এটি হার্ট বা কিডনির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
কেন এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ?
হার্ট ফেইলিউরে হৃদ্যন্ত্র রক্ত যথাযথভাবে পাম্প করতে পারে না। ফলে রক্ত পায়ের দিকে জমে যায় এবং শিরার ভেতরের চাপ বেড়ে যায়। এতে পা ফুলে যায়। পা উপরে তুললে সাময়িকভাবে এই তরল আবার হৃদ্যন্ত্রের দিকে ফিরে যায়। কিন্তু হার্ট দুর্বল হলে পা নামানোর সঙ্গে সঙ্গে তরল আবার নিচে নেমে আসে। ৫ সেকেন্ড লেগ টেস্ট মূলত এই পরিবর্তনটিই শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
তবে মনে রাখা জরুরি, এই পরীক্ষা হার্ট ফেইলিউর নির্ণয় করে না। পা ফোলার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন:
-ভ্যারিকোজ ভেইন
-কিডনি বা লিভারের সমস্যা
-কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
-দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা
-যদি ফোলা নিয়মিত হয় এবং দ্রুত ফিরে আসে, তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
-সতর্ক হওয়ার লক্ষণ
-৫ সেকেন্ড লেগ টেস্ট তখনই সবচেয়ে অর্থবহ, যখন এর সঙ্গে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোও দেখা দেয়:
-শুয়ে পড়লে বা অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট
-অস্বাভাবিক ক্লান্তি
-হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া
-দিনের শেষে পা বা গোড়ালি ফোলা
-রাতে কাশি বা শ্বাস নেবার সময় শোঁ শোঁ শব্দ
-অল্প খাওয়ায় পেট ভরা লাগা
-এই লক্ষণগুলোর একাধিক দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হার্ট ফেইলিউর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হলেও, সময়মতো শনাক্ত করলে চিকিৎসার মাধ্যমে জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। আধুনিক চিকিৎসায় রোগীরা আগের তুলনায় অনেক ভালো ও দীর্ঘ জীবন কাটাচ্ছেন। তাই শরীরের ছোট পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি পা ফোলা নতুনভাবে শুরু হয়, ক্রমে বৃদ্ধি পায়, বা সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। হার্ট ফেইলিউর নির্ণয়ের জন্য ডাক্তাররা শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, হার্ট স্ক্যান ও এক্স-রে ব্যবহার করেন। ঘরে বসে কোনো পরীক্ষা কখনোই চিকিৎসার বিকল্প নয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


