একসময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোটাই ছিল তাঁর স্বাভাবিক জীবন। লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশন– এই তিনের ভেতরেই গড়ে উঠছিল তাঁর স্বপ্ন। বলিউডের সিনেমায় ‘সোনালি ক্যাবল’, চেহরে, জালেবি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। কিন্তু ২০২০ সাল এসে সেই চলমান গল্পে হঠাৎ করেই এক ভয়াবহ ছেদ টেনে দেয়। বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের আকস্মিক মৃত্যুর পর রিয়ার নাম জড়িয়ে পড়ে বিতর্কে; যা শুধু রিয়ার অভিনয়জীবন নয়, পুরো ব্যক্তিজীবনকেই এলোমেলো করে দেয়।

এরপর কেটে গেছে ছয় বছর। এই সময়টায় বড়পর্দায় তো নয়ই, পর্দার আড়ালেও প্রায় অদৃশ্য ছিলেন রিয়া। যাঁকে একসময় সিনেমার নায়িকা হিসেবে দেখা যেত, তাঁকে তখন দেখা যাচ্ছিল টেলিভিশনের ব্রেকিং নিউজে, আদালতের সিঁড়িতে আর খবরের শিরোনামে। লাইট, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
সেই দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে নতুন করে আলোয় ফিরছেন তিনি। সম্প্রতি নেটফ্লিক্স তাদের আসন্ন বেশ কিছু প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। সেখানেই উঠে এসেছে নতুন ওয়েব সিরিজ, ‘ফ্যামিলি বিজনেস’-এর নাম। এই সিরিজেই অভিনয়ে ফিরছেন রিয়া চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অনিল কাপুর ও বিজয় বর্মাকে। অভিজ্ঞতা আর নতুন প্রজন্মের অভিনয়শক্তির এই সমীকরণে সিরিজটি ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা কৌতূহল। সিরিজটির ঘোষণা প্রকাশের পর রিয়াও নিজের উত্তেজনা লুকাননি। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন সিরিজের টিজার। তবে রিয়ার এই প্রত্যাবর্তনের গল্পটা শুধু নতুন কাজ পাওয়ার নয়; বরং টিকে থাকার।
২০২০ সালের পর রিয়ার জীবনে একের পর এক ধাক্কা এসেছে। বারবার তাঁকে দাঁড়াতে হয়েছে কাঠগড়ায়– আইনি প্রক্রিয়ার সামনে, সমাজের প্রশ্নের সামনে, আর সবচেয়ে বেশি করে জনমতের আদালতে। এক মাস সংশোধনাগারে কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময়ে ভেঙে পড়েছিলেন রিয়া। নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন জেগেছিল তাঁর মনে। জেলমুক্তির পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা শুরু করেন তিনি। আলো থেকে দূরে থেকে, নীরবে নিজের ক্ষত সারানোর চেষ্টা চলেছে। দীর্ঘ লড়াই শেষে গত বছর অবশেষে আদালত থেকে ক্লিনচিট পান রিয়া। সেই মুহূর্তটা ছিল তাঁর জীবনে এক ধরনের নিঃশব্দ স্বস্তি। যেন বহুদিন পর বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘অভিনয় আমার পরিচয়। এত কিছুর পরেও আবার কাজে ফিরতে পারছি, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
তিনি আরও বলেছিলেন, আজকাল ট্রল না হলে তাঁর মনে হয়, তিনি ঠিক কিছু করছেন না! কথাটা শুনতে হালকা হলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর বাস্তবতা। সুশান্তের মৃত্যুর পর তাঁর জেলে যাওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছিলেন কোটি কোটি মানুষ। সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে তাড়া করে ফেরে। রিয়ার আক্ষেপ, সেই বিপুল দর্শকের মধ্যে যদি অন্তত এক কোটি মানুষও বুঝত, আদালত থেকে ক্লিনচিট পাওয়ার প্রকৃত অর্থ কী।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
‘ফ্যামিলি বিজনেস’-এর মাধ্যমে রিয়া চক্রবর্তীর পর্দায় ফেরা তাই শুধুই একটি নতুন ওয়েব সিরিজের খবর নয়, এটি তাঁর জন্য নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার সুযোগ, নিজের গল্পটা আবার নিজের মতো করে বলার চেষ্টা। ছয় বছরের অন্ধকারের পর এই আলো কতটা উজ্জ্বল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত, ক্যামেরার সামনে ফিরে দাঁড়ানোই রিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


