খাতা-কলমে তারিখ লিখে রাখুন—মানবসভ্যতা আবারও চাঁদের পথে যাত্রা করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঘোষণা দিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ মার্চ ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের চার নভোচারী চাঁদের উদ্দেশে রওনা হবেন।

কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্রে উৎসবের প্রস্তুতি
ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র এখন ব্যস্ততায় মুখর। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ অভিযানের পর আর কোনো মানুষ চাঁদের এত কাছে যায়নি। সেই অর্ধশতাব্দীর বিরতির অবসান ঘটাতে এবার উৎক্ষেপণ মঞ্চে প্রস্তুত ৩২২ ফুট উঁচু বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট।
উৎক্ষেপণের আগে ‘ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ’ নামে চূড়ান্ত মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে। রকেটের যান্ত্রিক অংশ, জ্বালানি ব্যবস্থা ও সফটওয়্যার—সবকিছু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই মিলবে চূড়ান্ত অনুমতি।
বাধা পেরিয়ে প্রস্তুতি
এই মিশনের প্রস্তুতি একেবারে সহজ ছিল না। আগের পরীক্ষায় জ্বালানি ভরার সময় হাইড্রোজেন গ্যাস লিক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একাধিকবার সিল পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত সংশোধনের মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও সাময়িক ত্রুটি দেখা দিলেও ব্যাকআপ পদ্ধতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চার অভিযাত্রীর পরিচয়
আর্টেমিস ২–এর চার নভোচারী হলেন—
-রিড ওয়াইজম্যান
-ভিক্টর গ্লোভার
-ক্রিস্টিনা কোচ
-জেরেমি হ্যানসেন
তারা বর্তমানে স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। মহাকাশে যাওয়ার আগে যেন কোনো অসুস্থতা তাদের পরিকল্পনায় বিঘ্ন না ঘটায়, সেজন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানে তারা প্রায় ছয় লাখ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করবেন। যদিও তারা এবার চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না, তবুও মানুষের চোখে এত কাছ থেকে চাঁদ দেখা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
নতুন যুগের সূচনা
আর্টেমিস কর্মসূচি কেবল একটি মহাকাশ ভ্রমণ নয়; এটি ভবিষ্যতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং আরও দূরবর্তী গ্রহ অভিযানের প্রস্তুতির অংশ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৬ মার্চের উৎক্ষেপণ মানব ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবে।
সূত্র: এনপিআর
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


