ভোলা-৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাধীনতার ৫৬ বছরে ভোলা থেকে প্রথমবারের মতো কেউ আইন প্রণেতাদের এই শীর্ষ পদে আসীন হওয়ায় পুরো দ্বীপজেলায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তার স্পিকার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোলার সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রবীণ এই পার্লামেন্টারিয়ানের মাধ্যমে সংসদের হারানো সুনাম ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তার জন্মভূমির মানুষ। স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টিকে নিজের জন্য বড় সম্মান বলে উল্লেখ করেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেও।
বর্ণাঢ্য ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয়বারের মতো মন্ত্রী হন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সে সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি দুইবার বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং পাট ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
তরুণ বয়স থেকেই স্বাধীনচেতা ছিলেন দেশপ্রেমিক হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মহান মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য সাহসিকতার জন্য তিনি রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীর বিক্রম’ অর্জন করেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৬৪ সাল থেকে পরপর তিনবার পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব ছিলেন তিনি। তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দুইবার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসে বাবার পথ অনুসরণ করে রাজনীতিতে নামেন হাফিজ এবং সাধারণ মানুষের মন জয় করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে পরপর দুইবার ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে পান প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির হয়ে বিজয়ী হন তিনি। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে ১৯ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি ২০০১ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ২২ মে পর্যন্ত পাটমন্ত্রী এবং এরপর ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর লালমোহন ও তজুমদ্দিনে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন তিনি। ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনের পৈতৃক বাড়িতে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ভোলাবাসীর উচ্ছ্বাস ও প্রতিক্রিয়া
ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলম বলেন, ‘হাফিজ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন ধরে ভোলার মানুষের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন দল থেকে মন্ত্রী নির্বাচিত হলেও এই প্রথম ভোলার কোনো কৃতী সন্তান স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন যা আমাদের জন্য গৌরব ও সম্মানের।’
তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু জানান, অবহেলিত ভোলায় স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি নির্বাচিত হওয়ায় এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
ভোলার ২০ লাখ মানুষের গৌরব হিসেবে এই অর্জনকে দেখছেন জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন এবং একটি সুন্দর সংসদ উপহার দেবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকেও তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ইকরামুল আলম জানান, মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার বিবেচনায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হওয়ার শতভাগ যোগ্যতা রাখেন। এটি ভোলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


