আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশেই ছিলেন। ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তিনি দেশের ভেতরেই পালিয়ে ছিলেন ৮ মাস।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দৈনিক মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন ধরা পড়ার ভয়ে একাধিকবার বাসা বদল করেছেন। মোবাইল ফোনের সিম বদলিয়েছেন ৬ বার। চেহারায় আনেন আমূল পরিবর্তন। রেখেছেন দাড়িও। এক বছরের অধিক সময় তিনি অন্তরালে ছিলেন। যদিও এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন।
তবে কীভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র্রে পৌঁছালেন সেটি বলেননি। তিনি জানিয়েছেন; এখনো সে ঘটনা বলার সময় আসেনি। এ নিয়ে রহস্যও জিইয়ে রাখলেন সাবেক এই কূটনীতিক।
সম্প্রতি তিনি নিজেই মিডিয়ার সামনে হাজির হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র্রে থাকা এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় কথা বলেন। স্বভাব ভঙ্গিতেই জানিয়েছেন দেশে পালিয়ে থাকার ঘটনা।
ওই ইন্টারভিউতে ড. মোমেন বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে তিনি আমেরিকাতেই ছিলেন। তবে সেখান থেকে কয়েক দিন পর দেশে ফিরেন। আসার পরপরই গণ-অভ্যুত্থান হয়। ফলে তাকেও অন্যদের মতো আত্মগোপনে যেতে হয়েছে।
প্রশ্ন করা হয়েছিল কীভাবে তিনি দেশ ছেড়েছেন। সে প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি। তবে তিনি দেশের ভেতরে পালিয়ে থাকার কিছুটা বর্ণনা দিয়েছেন।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা সিনেমা হতে পারে। সুন্দর মুভি হবে। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমি কোনো অন্যায় করিনি। কাউকে কোনোদিন জেলে পাঠাইনি। কোনো চুরি-চামারি করিনি। সো আই ওয়াজ কনফিডেন্ট। তখন আমার সবাই বললো- স্যার আপনার নাম্বার পেয়ে গেছে। এখান থেকে পালান।’
ড. একে মোমেন জানান, ‘আমি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাইনি। আমার সব আত্মীয়-স্বজন পাবলিকলি নোন। আমি অন্যান্য লোকের যেমন রেন্ট হাউসের বাড়িতে ছিলাম। এইটা আমার খুব কাজ দিয়েছে।’
পালিয়ে থাকা বিবরণ তুলে ধরে ড. মোমেন জানান, ‘আমি পালিয়ে পালিয়ে ছিলাম। যাতে বাইরে কেউ না চিনতে পারে, মব’র জ্বালায় সেজন্য চেহারা-টেহারা সব পরিবর্তন করে ফেলেছি। আমার বউয়ের প্রেসারে ও উনার বুদ্ধিতে বের হয়েছি। এই যে বের হইছি কিছু জানি না। কারণ আমি তো ফোনে কথা বলতে পারি না। সি মেক দিস এরেঞ্জমেন্ট। দেশে অনেক ফড়িয়া আছে আপনাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য। ওগুলো সবগুলোই মানি মেকিং। শুধু টাকা নেয়। আমি জীবিত আছি, আর মানুষের দোয়া। বহু লোক আমার জন্য দোয়া করেছে। ওমরাহ্ হজ করেছে। আমি তো অনেককেই চিনি না। বাট ডিড ইট।’
প্রশ্ন করা হয়েছিলো বাই এয়ারে সরাসরি শাহ্জালাল থেকে এসেছেন না অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে? জবাবে ড. মোমেন জানান, ‘না না বিমানবন্দর তো আপনি যেতেই পারবেন না। ধারে কাছেও না। পালিয়ে এসেছি, বিভিন্নভাবে। সব বলা যাবে কোনো এক সময়, এখন বলতে চাচ্ছি না। কারণ- সরকারি লোকরাই আমাকে সাহায্য করেছে।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


