জুমবাংলা ডেস্ক : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি গাভি একসঙ্গে তিনটি ষাঁড় বাছুর জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে গাভি ও বাছুর তিনটি সুস্থ রয়েছে, স্বাভাবিকভাবে খাবারও খাচ্ছে। ঘটনাটি বিরল বলে উল্লেখ করেছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বাহিরকাদি গ্রামের গৃহবধূ নাহিদা সুলতানার বাড়িতে পালন করা একটি গাভি এই তিন বাছুর জন্ম দেয়। এই অবস্থায় তাঁর বাড়িতে আনন্দের বন্যা বইছে। তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সকাল থেকে বাছুরগুলো দেখতে ভিড় করছে গ্রামবাসী।
নাহিদা সুলতানা জানান, ২০১৯ সালে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি গরু কিনেছিলেন। কেনার সময় গরুটি সাত মাসের গর্ভকালীন ছিল। পরে এর গর্ভে জন্ম নেয় একটি বাছুর। বাছুরটি বড় হয়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে একটি করে বাছুর দেয়। আর এবার একসঙ্গে তিনটি বাছুর হয়েছে।
এই গৃহবধূ জানান, গতকাল সেহরির সময় (রাত ৪টা) প্রথম বাছুরের জন্ম হয়। এর দেড় ঘণ্টা পর আরও একটি ও সকাল সাড়ে ৭টায় তৃতীয় বাছুরটি হয়। একসঙ্গে তিনটি বাছুর পেয়ে তাঁর পরিবারের সবাই খুশি।
নাহিদা সুলতানার স্বামী ছাইদুর রহমান স্বপন জানান, তিনি বাসচালক। বাস চালানোর ফাঁকে তিনিও গরু পালনে কিছুটা সময় দেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী সার্বক্ষণিক গরু-বাছুরগুলোকে সন্তানের মতো লালনপালন করেন। তিনি বলেন, পরিবারে নতুন সন্তানের জন্ম হলে যেমন আনন্দ-অনুভূতি হয়, গাভির তিনটি বাছুর হওয়ায় তেমনই আনন্দ হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ আরভিং জানান, বাজারে যাওয়ার সময় শুনতে পান, স্বপনের বাড়িতে একটি গাভি তিনটি বাছুর জন্ম দিয়েছে। শুনে সঙ্গে সঙ্গে এখানে এসে দেখেন মানুষের ভিড়। বাছুরগুলোকে দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে দুটা বাছুর জন্ম নিতে দেখেছি। তবে আমাদের এলাকায় একসঙ্গে তিনটি বাছুর জন্ম নিতে শুনিনি বা দেখিনি। এটাই প্রথম।’
কটিয়াদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. লিটন মিয়া বলেন, উন্নত জাতের গাভি সাধারণত দুটি বাছুর জন্ম দিতে পারে। তবে সেটা খুবই কম। ২ থেকে ৫ শতাংশ গাভি একাধিক বাছুর জন্ম দিয়ে থাকে। একসঙ্গে তিনটি বাছুর জন্ম দেওয়ার বিষয়টি বিরল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাকে মাল্টিপল অভ্যুলেশন বলে। একাধিক ডিম্বাণুর সঙ্গে একাধিক শুক্রাণুর মিলিত হওয়ার ফলে এমনটা হয়ে থাকে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।