ধ্বংসস্তুপ থেকে পুনরায় উন্মুক্ত করা হলো হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ-এর কার্যালয়। তবে উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শহরের টাউন হল এলাকায় অবস্থিত জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর কার্যালয় চালু হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সকালে প্রায় ১০–১২ জন নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে দলীয় স্লোগান দেন এবং পরে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় হবিগঞ্জ সদর ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, জেলা ও সদর উপজেলা যুবলীগ, জেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ তৃণমূল পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, সব ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী এই দলকে কোনো অপশক্তি দমিয়ে রাখতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না বলে তারা মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার ও ঐক্যবদ্ধভাবে পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
কার্যালয় পুনরায় চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুরে হঠাৎ করে ভবনের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। স্থানীয়রা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, আগুন লাগার বিষয়টি আমাদেরকে জানায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় কার্যালয়টি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরদিন ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন সেখানে কোনো দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। কার্যালয় পুনরায় চালু ও একই দিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গণে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


