বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় উত্তজনা ছড়িয়ে দিয়ে ডেনিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের সুপ্ত ইচ্ছা পূরণে এবার সরাসরি সামরিক কমান্ডকে যুক্ত করার এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর অস্তিত্ব সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’ এক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছে।

আক্রমণের ছক ও পেন্টাগনের দ্বিমত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মার্কিন ‘জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড’-কে গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণ ও তা দখলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলেছেন। তবে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা তথা ‘জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ’ এই পদক্ষেপকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক অভিহিত করে এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। ট্রাম্পের কট্টর সহযোগী স্টিফেন মিলার এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান কারিগর বলে জানা গেছে, যিনি ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানে উৎসাহিত হয়ে এবার গ্রিনল্যান্ডকে নিশানা করেছেন।
কেন গ্রিনল্যান্ডকে চাচ্ছেন ট্রাম্প? ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে এবং মার্কিন নিরাপত্তার স্বার্থে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বিশাল দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতে থাকা জরুরি। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এখন সামরিক অভিযানের পথকেই বেছে নিতে চাইছেন তিনি।
ন্যাটোর ভাঙন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রস্তুতি কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিত্র দেশ ডেনমার্কের ওপর এই আক্রমণ ন্যাটো জোটের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিতে পারে। একটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, “গ্রিনল্যান্ড দখল ইউরোপীয়দের ন্যাটো ত্যাগে বাধ্য করবে। ট্রাম্প যদি ন্যাটো শেষ করতে চান, তবে এটিই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।”
এদিকে ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী পদক্ষেপ রুখতে ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যরা ইতিমধ্যে গোপনে শলাপরামর্শ শুরু করেছেন। গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চল রক্ষায় তারা ওই এলাকায় নিজেদের সেনা, জাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা করছেন।
প্রেক্ষাপট ২০১৯ সালেও গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়ে হাসির পাত্র হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই প্রস্তাব এখন সামরিক হুমকিতে রূপ নেওয়ায় নর্ডিক দেশগুলোসহ পুরো ইউরোপে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

