ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এবার যেকোনো হামলাকে- সীমিত, সীমাহীন, সার্জিক্যাল, কাইনেটিক, তারা এগুলোকে যাই বলুক- আমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করবো। আর এর নিষ্পত্তি করতে সম্ভাব্য কঠোরতম উপায়ে প্রতিক্রিয়া জানাবো।’ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী বহর ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে হাজির হওয়ার আগে শুক্রবার তিনি এ কথা বলেন।

নাম প্রকাশ করার শর্তে তিনি বলেন, এই সামরিক শক্তি বৃদ্ধি- আমরা আশা করছি এটা সত্যিকার সংঘর্ষের উদ্দেশ্যে নয়- তবে আমাদের সামরিক বাহিনী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছে। এই কারণেই ইরানে সবকিছু উচ্চ সতর্কাবস্থায় আছে।
ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘বিশাল বহর’ উপসাগরের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ‘সম্ভাবনা কম’ বলে তিনিই কিছুদিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করা এই বহরে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বেশ কিছু গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোস থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, মূলত সতর্কতা হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না, তবে পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমি চাই না কিছু হোক, কিন্তু তাদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
এর জবাবে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যদি আমেরিকানরা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে আমরা জবাব দেব। তবে ইরানের জবাব কী ধরনের হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে অস্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক হুমকির মুখে থাকা একটি দেশের এটি প্রতিরোধ করতে তাদের আয়ত্তের মধ্যে থাকা সবকিছুর ব্যবহার নিশ্চিত করা আর সম্ভব হলে ইরানে আক্রমণ করার সাহস করে এমন যে কারও বিরুদ্ধে ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তীব্র উত্তেজনার সময় প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের অধিকাংশই প্রতিরক্ষামূলক ছিল। কিন্তু গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলার আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে বড় ধরনের শক্তি বৃদ্ধি করেছিল।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, জাহাজের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরান যে ভয়াবহ দমনপীড়ন চালিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


