রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর একটি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো হাসপাতাল এলাকা। সদ্য পৃথিবীর আলো দেখা শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগও তুলছেন পরিবারগুলো।

বুধবার (২৭ মে) সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষের সামনে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সদ্য অস্ত্রোপচার হওয়া মায়েরা ঠিকভাবে দাঁড়াতেও পারছেন না, অথচ তাদের কোল শূন্য। কেউ সন্তানের নিথর দেহ আঁকড়ে ধরে আছেন, আবার কেউ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছেন চারপাশে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও এক থেকে দুই দিন বয়সী ছয় নবজাতক পর্যবেক্ষণে ছিলেন। সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর মা ও শিশুদের ওই ওয়ার্ডেই রাখা হয়েছিল।
স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি ছিল না। এক নবজাতকের দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রথমে বলা হয়েছিল শিশুটিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারা জানতে পারেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই। তার অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে অন্য হাসপাতালে পাঠানো উচিত ছিল।
আরেক সন্তানহারা মা বলেন, রাতে ওয়ার্ডজুড়ে শিশুদের কান্না, বমি ও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। সকালে অবস্থার অবনতি হলে তার শিশুকে বাইরে নেওয়া হয়। পরে আইসিইউতে নেওয়ার পর আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
নাদিম নামের এক নবজাতকের স্বজন জানান, রাত থেকেই কাউকে ওয়ার্ডে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। নার্সরা জানিয়েছিলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে সমস্যা হয়েছে। সকালে একে একে শিশুদের বের করে আনা হয়। তখন অনেকেই শ্বাসকষ্ট ও বমিতে ভুগছিল।
ঘটনার পর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের গ্যাস লিক হওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিছু স্বজনের দাবি, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাত তিনটার দিকে দুই নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান এবং পরে আবার ওয়ার্ডে ফিরিয়ে আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, ভোর ছয়টার পর দায়িত্বে থাকা নার্স ও মায়েরা শিশুদের অবস্থার আবার অবনতি লক্ষ্য করেন। পরে ছয় নবজাতককেই দ্রুত নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি চারজনকে ভেন্টিলেটর সহায়তা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



