বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই। আধিপত্যবাদের ছায়া আমরা দেখতে চাই না। বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কেউ এসে খবরদারি করুক তা দেখতে চাই না।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধায় ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আমির বলেন, আমি এসেছি সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে গোটা দেশ ও জাতির নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠ হয়ে। পিতাহারা এতিম শিশুদের দুঃখের গল্প শোনাতে। মজুলমদের পক্ষে কথা বলতে।
তিনি বলেন, অতীতের সরকাগুলো উপেক্ষা, উদাসীনতা ও অবহেলা করে গোটা নর্থ বেঙ্গলকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গোটা দেশ ও উত্তরবঙ্গের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন এবং ভোটে যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে প্রথমে আমাদের দৃষ্টি পড়বে উত্তরবঙ্গের মরা নদীগুলোতে।
জামায়াতের আমির বলেন, ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী শাসন আমরা দেখতে চাই না। আমরা আমূল পরিবর্তন চাই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট সফল হলে সাধারণ ভোট সফল হবে। গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ বলতে হবে। জুলাই শহিদদের প্রতি সম্মান দেখাতে হ্যাঁ বলতে হবে। জুলাই আন্দোলনের শহিদরা চেয়েছিল একটি আধিপত্যবাদমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়-ইনসাফের ও উন্নয়নের বাংলাদেশ। আগামীতে শকুনের ছায়া যেন বাংলাদেশের মাটিতে পড়তে না পারে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। যুব সমাজ জীবনে একটিও ভোট দিতে পারেনি। বস্তাপচা যে ব্যবস্থা- হত্যাকারী, খুনী, মামলাবাজ, দখলবাজ, ধর্ষক বানায় তা পরিবর্তনের জন্য জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে।
উত্তরবঙ্গকে দেশের খাদ্য শস্যের ভান্ডার উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। চাঁদাবাজ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পায় না। আমরা চাঁদাবাজদের নির্মূল করব। চাঁদাবাজদেরও কাজ দিয়ে সম্মানের সাথে বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা আর কোথাও লজ্জিত না হয়।
জামায়াতের আমির বলেন, জামায়াত নির্বাচিত হলে ঘরে বসে জনগণ উত্তরবঙ্গকেও রাজধানী করতে পারবে। কাজের জন্য ঢাকায় দিয়ে গলিতে গলিতে ঘুরতে হবে না। শিক্ষা দিয়ে যুবক-যুবতীদের হাতকে দক্ষ করে গড়ে তুলবো। পুরো উত্তরবঙ্গকে আমরা শিল্পসমৃদ্ধ করতে চাই।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশর ১৫টি জেলায় মেডিকেল কলেজ আছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


