গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্র। পরিসংখ্যান খুব একটা চোখধাঁধানো না হলেও নিজেদের লক্ষ্য পূরণে সফল হয়েছে জাপান। সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপ রানারআপ হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে সামুরাই ব্লুরা। এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই তুলনামূলক সতর্ক ফুটবল খেলায় ব্যস্ত ছিল। ফলে উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগ খুব কমই তৈরি হয়। তবে বিরতির পর ম্যাচে গতি বাড়ায় জাপান।
ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে রিৎসু দোয়ানের দারুণ থ্রু পাস ধরে গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন দাইজেন মায়েদা। গোলের পর জাপানের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়লেও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
মাত্র ছয় মিনিট পর সুইডেনের হয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন অ্যান্থনি এলাঙ্গা। বক্সের কোণা থেকে নেওয়া তার চমৎকার কার্লিং শট জালে জড়ালে সমতায় ফেরে সুইডেন। গোলটি দৃষ্টিনন্দন হলেও জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি আরও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে পরে নিজের ভুল শুধরে নেন সুজুকি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
এই ফলের ফলে জাপান গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। অন্যদিকে সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর একটি হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছে সুইডেনও।
ম্যাচ শেষে জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেন, অন্য দলের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে নয়, নিজেদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নকআউট নিশ্চিত করতে পারাটা দলের জন্য বড় অর্জন।
তিনি বলেন, “তৃতীয় স্থান নিয়ে অন্যদের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকার চেয়ে নিজেদের শক্তিতে পরের রাউন্ডে ওঠা অনেক বেশি সন্তোষজনক। আমরা বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলছি এবং সেই মানসিকতাই ধরে রাখতে চাই।”
এবার নকআউট পর্বে জাপানের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে সেলেসাওরা গ্রুপ পর্বে সাত পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে ৩-০ গোলে হারানোর পাশাপাশি মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা।
ব্রাজিলের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চার গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও আছেন।
অন্যদিকে জাপানও আত্মবিশ্বাসী। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রসহ পুরো গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেছে তারা। বিভিন্ন ম্যাচে বিভিন্ন খেলোয়াড়ের অবদান দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
সহকারী কোচ হিরোশি নানামির অবদানেরও প্রশংসা করেছেন মোরিয়াসু। তার মতে, দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল এবার জাপানকে আগের দুই বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি গোল করতে সহায়তা করেছে।
ব্রাজিলকে নিয়ে মোরিয়াসুর মূল্যায়নও ছিল বাস্তবধর্মী। তিনি বলেন, “ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। আমরা তাদের যথেষ্ট সম্মান করি। তবে ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব। আমাদেরও জয়ের সুযোগ রয়েছে।”
গত বছর টোকিওতে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি থাকলেও এবার ভিন্ন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, নকআউট পর্বে ব্রাজিল আরও মনোযোগী ও ভয়ংকর রূপে মাঠে নামবে।
এক ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক জাপানকে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে দেখছেন কি না জানতে চাইলে মোরিয়াসু আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, একসময় ব্রাজিল হয়তো জাপানকে সহজ প্রতিপক্ষ মনে করত, কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলে গেছে। জাপানি ফুটবলের উন্নয়নই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
ব্রাজিলকে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, নকআউট পর্বের একটি ম্যাচে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। সেই বিশ্বাস নিয়েই শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামবে জাপান।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



