সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের শিডিউল কেনার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ায় এক ঠিকাদার শিডিউল কিনতে পারেননি—এমন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার এস এম শাহ আলম, তিনি “বি এস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল” প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত চালানের মাধ্যমে লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং জেলা প্রশাসকের এলআর ফান্ডে টাকা জমা দেওয়ার পরও শাহ আলমের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। তার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এস এম শাহ আলম বলেন, “আমি একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের শিডিউল কেনার জন্য প্রয়োজনীয় তালিকাভুক্তির সনদ নবায়নের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু শিডিউল কেনার সময় শেষ হয়ে গেলেও আমার লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। ফলে আমি শিডিউল কিনতে পারিনি।”
তিনি আরও জানান, লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের জন্য তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করেছে জেলা প্রশাসন ও বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। প্রথমদিকে লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় তিনি দরপত্রের শিডিউল কিনতে ও জমা দিতে পারেননি। পরে নবায়ন করে অংশ নিতে চাইলেও সেটিও সম্ভব হয়নি।
ঠিকাদার এস এম শাহ আলমের প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, তাদের লাইসেন্সের মূল কপি হারিয়ে যাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী জিডি করে ৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডুপ্লিকেট কপির জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনটি অনুমোদনের পর ৫ এপ্রিল লাইসেন্স নবায়নের জন্য চালানের মাধ্যমে সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং এলআর ফান্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে পুনরায় আবেদন করেন তারা।
তিনি জানান, সেদিন জানা যায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অফিসে নেই। পরদিন ৬ এপ্রিলও কোনো সাড়া না পেয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় তারা লাইসেন্স দ্রুত নবায়নের অনুরোধ জানালে জেলা প্রশাসক প্রথমে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান এবং আবেদনের কপি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলেন।
কিন্তু পরে দুপুরের দিকে আবার ফোন করলে জেলা প্রশাসক অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নিয়ম মেনে অপেক্ষা করলেই কাজ হয়ে যেত। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিএ বজলু ফোন করে লোক পাঠিয়ে কাজ করিয়ে নিতে বলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার জানান, সেদিন আর লাইসেন্স নবায়ন সম্ভব নয় এবং তারা শিডিউল কিনতে পারবেন না।
মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন আরও বলেন, “আমরা ৫ এপ্রিলই নবায়ন ফি ও এলআর ফান্ডের টাকা জমা দিয়েছি। তারপরও লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। আমরা জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিলাম, শিডিউল কিনতে পারলে আমরা বেশি মূল্যে দরপত্র জমা দিতাম। কিন্তু বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রক্রিয়ায় দরপত্র কার্যক্রম চলতে থাকলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে। তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্য ‘খান এন্টারপ্রাইজ’-কে ইজারা পাইয়ে দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি বলে লোকমুখে শুনেছেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী বলেন, “৫ এপ্রিল আমি অফিসে ছিলাম না। তবে ৬ এপ্রিল সারাদিন অফিসে ছিলাম। ওই ঠিকাদার আমার সঙ্গে দেখা করেননি বা কোনো সমস্যার কথা জানাননি। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে লাইসেন্স নবায়ন না করার কোনো কারণ নেই।”
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়নি—এ তথ্য সঠিক নয়। তিনি মূল লাইসেন্স হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলেন। ডুপ্লিকেট না পাওয়া পর্যন্ত নবায়ন সম্ভব নয়। আমরা তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। তবে তিনি শেষ মুহূর্তে সব কাজ একসঙ্গে করায় যাচাই-বাছাইয়ে সময় লেগেছে।”
এদিকে, হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের দরপত্র প্রক্রিয়াকে ঘিরে সমঝোতার মাধ্যমে কম দর দেখিয়ে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির একটি পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ পরিবার এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের অভিযোগ, আজীমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আকবর খান ও তার ভাই আকিবুল হাসান খান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


