সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নের ইছাইল গ্রামে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে ওই এলাকার কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কাশাদহ গ্রামের বাসিন্দা মো. সুজন খান এই মাটি কাটার কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর আগে গত ২ মার্চ রাতে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিষা রানী কর্মকার।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, জরিমানার পর সুজন খান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। জরিমানার দুই দিনের মধ্যেই তিনি আবারও মাটি কাটা শুরু করেন। গভীর গর্ত করে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়ায় পাশের জমিগুলোও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান তারা।
খোঁজ নিয়ে যায়, এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে বড় বড় ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্যাপক আকারে খননের ফলে কৃষিজমিগুলো ধীরে ধীরে জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এসব জমিতে কৃষিকাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
পরিবেশ ও ভূমি-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবৈধ মাটি কাটার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তাঘাটও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাটি ব্যবসায়ী মো. সুজন খান বলেন, তিনি কৃষিজমির মাটি কাটছেন না; এটি একটি পুরোনো পুকুর, যা নতুন করে খনন করা হচ্ছে। যারা তথ্য দিয়েছেন, তারা ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কৃষিজমির মাটি না কেটে পুরোনো পুকুর খনন করা হলে কয়েকদিন আগে জরিমানা করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইউএনও স্যার রাত ১২টার দিকে এসেছিলেন। তখন মোবাইলের আলো ছাড়া তেমন কোনো আলো ছিল না, তাই জমির প্রকৃতি ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। আমি তাকে পুরোনো পুকুর খননের বিষয়টি বলেছিলাম। পরে পাড় না বেঁধে বাইরে মাটি বিক্রি করার কারণে আমাকে জরিমানা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সুজন খান নিজস্ব একটা পুরাতন পুকুর পুনঃখননের জন্য ডিসি স্যার বরাবর একটি আবেদন দিয়েছে। কিছুদিন আগে জরিমানা করার সময় সেই আবেদন ছিলনা, জরিমানা করার পরই সে আবেদন করেছে। তবে পাড় না বেধে বাইরে মাটি বিক্রি করলে আমাকে জানান, আমি বিষয়টি দেখবো।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


