খেলাধুলা ডেস্ক : বাংলাদেশ দল সংবাদ সম্মেলন শেষ করে যাওয়ার আগেই ভারত এল সংবাদ সম্মেলন করতে। দুই দলের কোচ, অধিনায়ক, খেলোয়াড়সহ চারজনকে একসঙ্গে পাওয়া গেল। শিলং শহরের প্রাণকেন্দ্র পুলিশ বাজারের পাশেই বাংলাদেশ দলের আবাস ভিভান্তা হোটেলের হলরুমের মঞ্চে তাঁরা সহাস্যে ছবির জন্য পোজ দিলেন। করমর্দন করলেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে এসব নিছকই সৌজন্যতা।
কিন্তু আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু ম্যাচে এই সৌজন্যতা থাকবে না। এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচটা দুই দলই জিততে চায়। তাই মাঠেই হবে আসল টক্বর।
তবে এর আগে আজ দুপুরের দিকে দুই দলের যে সংবাদ সম্মেলন হলো, তাতে একে অন্যের প্রতি সম্মানের কোনো ঘাটতি চোখে পড়েনি। বাংলাদেশ যেমন সুনীল ছেত্রীর আট মাস পর ফিরে আসাকে সম্মান করছে, তেমনি বাংলাদেশ দলের জার্সিতে প্রথমবারের মতো হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি সমীহের চোখে দেখছে ভারতও।
বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য একটাই—জয়। হামজা আসায় এই ম্যাচ নিয়ে তৈরি হওয়া উন্মাদনা কাজে লাগাতে চান জামালরা। গত কদিনে শিলংয়ে অনুশীলন মাঠ নিয়ে নানা টানাপোড়েনকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না বাংলাদেশের কোচ-অধিনায়ক।
কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া দুজনই বলেছেন, জেতার জন্য বাংলাদশ দল তৈরি। মাঝখানে যা সমস্যা হয়েছে সেগুলো ভুলে যেতে চান তাঁরা।
তবে কারবেরা মনে করেন আকর্ষণীয় এবং কঠিন একটা ম্যাচ হবে। একই সঙ্গে এটাও বললেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং জিততে চাই।’ এই ম্যাচের আগে কোনো অনুশীলন ম্যাচ খেলতে না পারাকে কোচ অজুহাত হিসেবে দেখাতে চান না কাবরেরা, সৌদি আরবে ক্যাম্প করে তিনি খুশি।
হামজা বনাম ছেত্রী লড়াইটা ‘এক্সাইটিং’ হবে, মনে করেন কাবরেরা। সঙ্গে যোগ করেন, ‘হামজা আসায় অবশ্যই আমাদের শক্তি বেড়েছে। সুনীলও ভালো খেলোয়াড়। তার প্রতি সম্মান আছে। ভারতের প্রতিও অনেক সম্মান আছে আমাদের।’
বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছে ভারতের বিপক্ষে। তা জানা আছে কাবরেরার, ‘এরপর আর জিততে পারিনি আমরা ভারতের বিপক্ষে। তবে এই ম্যাচ নিয়ে আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। মানসিকভাবে শক্তিশালী আছি।’
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার ভালো স্মৃতি আছে ভারতের সঙ্গে। ২০১৯ সালে কলকাতার সল্ট লেকে সাদ উদ্দিনের করা গোলটা ছিল তাঁরই সহযোগিতায়। সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চান জামাল, ‘দুই দলের র্যাঙ্কিংয়ে আমরা পিছিয়ে। তবে র্যাঙ্কিং দেখছি না। দলে হামজার মতো খেলোয়াড় এসেছেন। দলকে অনুপ্রাণিত করছেন তিনি। ম্যাচটা জিততে আমরা নিজেদের সেরাটা দেব।’
ঘরের মাঠে সব দর্শক থাকবে ভারতের পক্ষে। একটা অদৃশ্য চাপ ঘিরে থাকবে বাংলাদেশকে। সেটা উতরে লক্ষ্য পূরণের প্রত্যয়ও শোনা যায় জামালের কণ্ঠে। ২০১৯ সালে ম্যাচের আগে জামাল বলেছিলেন, ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) থেকে অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় আসছে ভারতীয় দলে। আজও একই কথা বলেন, ‘আইএসএল বিপিএল ( বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) থেকে এগিয়ে। এখনো একই কথা বলব।’
হামজা আসায় কোচ বলেছেন, এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। তবে, ‘ড্র হলে ওকে, কিন্তু জিতলে খুব ভালো’ মন্তব্য করে জামালের কথা, ‘আমরা সবাই জয়ের জন্যই এসেছি। সবাইকে তা জিজ্ঞেস করতে পারেন। হামজার দলভুক্তি ইতিবাচক। কিন্তু স্থানীয়দেরও ভালো খেলতে হবে।’
বাংলাদেশের মানুষ ম্যাচটার দিকে তাকিয়ে আছে। এটি চাপ কি না, কী মনে করেন অধিনায়ক? জামাল বলছেন, ‘চাপ তো আছেই। তবে এই ম্যাচের বাড়তি ফোকাস আছে। একই সঙ্গে জেতার কথাও ভাবছি। জয় ছাড়া আসলে আর কিছু ভাবছি না।’
ভারতের কোচ মানোলা মার্কেজের প্রথম কথাই হচ্ছে, ম্যাচটা ভালো হতে পারে আবার খারাপও হতে পারে। হামজা চৌধুরীর ম্যাচ আগে কখনো দেখেছেন কি না, প্রশ্নটা এড়িয়ে বলেন, ‘হামজা ভালো খেলোয়াড়।
সে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছে। এখন চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়ান ফুটবলের জন্যই সে ভালো। অবশ্যই সে খুব ভালো খেলোয়াড়। এমন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলতে আমার দল উজ্জীবিত হয়ে আছে। ওর মাঠে থাকা বাংলাদেশের জন্য ভালো। একটা প্রভাব হয়তো সে রাখতে পারে।’
গত কদিনে ভারতের কোনো অনুশীলন সাংবাদিকদের দেখতে দেননি ভারত কোচ। এ নিয়ে প্রশ্ন হলে মার্কেজ নানা ব্যাখা দিয়ে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলেন, ‘আমরা নিবিড় প্রস্তিতি নিতে চেয়েছি। এখন আসলে আধুনিক ফুটবল অলাদা। প্রতিটি ম্যচে আমরা উন্নতি করত চাই। সেরা উপায়ে আমরা খেলত চাই।’
ঈদ উপলক্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে
প্রতিপক্ষ শিবিরে হামজা থাকায় কোচ হিসেবে এই ম্যাচ চাপ অনুভব করছেন কী? সব মিলিয়ে কী ভাবছেন? ছেত্রীর ফিরে আসাকেই বা কীভাবে নিচ্ছেন? ভারত কোচ বলেন, ‘চাপ তো থাকবেই। সুনীল আসায় ভালো হয়েছে।’
কোচের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন ভারতের ডিফেন্ডার সন্দেশ জিঙ্গাল। ম্যাচ নিয়ে কোচের মতো তাঁরও কথা, ‘আমাদের জিততে হবে।’ বাংলাদেশ চেনা প্রতিপক্ষ জানিয়ে যোগ করেন, ‘বস ( কোচ) বলেছেন ম্যাচটা ভালো হতে পারে, খারাপও হতো পারে।’ ছেত্রীর কাছে প্রত্যাশ কী? জিঙ্গালের কথায়, ‘অবশ্যই সে আমাদের জন্য অনেক বড় প্রেরণা।’ বাংলাদেশ দল কি পারবে ভারতের ছেত্রীকে আটকাতে?
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।