বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার গত বছর ব্যস্ত সময় পার করেছেন। সেই ব্যস্ততার ধারাবাহিকতা এখনো ধরে রেখেছেন তিনি। সামনে ঈদ রেখে একের পর এক নাটকে অভিনয় করেছেন চলেছেন এ অভিনেতা। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে কাজ ও ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গে নিয়ে কথা বলেছেন শামীম হাসান সরকার।

তিনি বলেন, আমি সবকিছুর জন্য শুকরিয়া আদায় করি। গত বছর অনেক ভালো ভালো কাজ করেছি। কিছু কাজ দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করেছে, কিছু কাজ দিয়ে হয়তো পুরোপুরি দর্শকদের মন জয় করতে পারিনি। আমি চেষ্টা করে যাব। আর নিজের কাজগুলো নিয়ে সমালোচনাকেও ভালোভাবে নিয়েছি। আমার পরিবারের সবাই পাশে আছে। ভালো কাজের আস্থা আমার আছে।
‘কাশ্মীরি বউ’–এর প্রসঙ্গে শামীম হাসান বলেন, কদিন আগে নতুন একটি নাটকের শুটিং করেছি। সেই নাটকের নাম ’কাশ্মীরি বউ’। কাশ্মীরে ঘুরতে গিয়েই পরিচয় হয়। পরে বিয়ে।
সেই মেয়ে কাশ্মীর থেকে একটি গ্রামে আসে। সেই মেয়েটির নাম থাকে হানিয়া আর আমার নাম আমির। মূলত হানিয়া ও আমিরের প্রেম-বিয়ের কমেডি গল্প নিয়েই নাটক।
তিনি বলেন, কাশ্মীরি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেবা জান্নাত। নাটকে প্রথমবার আমরা একসঙ্গে অভিনয় করলাম। ডিসেম্বর মাসে সব মিলিয়ে ১০টা নাটকে কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সব গল্পই আমার পছন্দের ছিল।
ছোটপর্দার নাটক ছাড়া কোনো ওটিটি কিংবা সিনেমাতে দেখা না যাওয়া প্রসঙ্গে এ অভিনেতা বলেন, আমি হয়তো যোগ্য নই বলেই ডাকছে না। ডাকলে তো আমাকে যোগ্য মনে করত।
আমি নিজেও তো নিজেকে ওটিটিতে দেখতে চাই। আমাকে যদি কেউ বলে ওটিটির কাজ করতে হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। নিয়মিত নাটক করলেও, তবে আমি ওটিটির কাজ নিয়ে আশাবাদী।
শামীম হাসান বলেন, যেসব টিম বা পরিচালক ওটিটির কাজ বেশি করছেন, তাদের সঙ্গে আমার খুব একটা আড্ডা বা হাই হ্যালো হয় না। কারও সঙ্গে পরিচয় নেই। যে কারণে যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। এটা হয়তো আমারই ব্যর্থতা। একটা কথা কেন যেন প্রায়ই মনে হয়, অনেকের কাছেই আমার বদনাম বেশি।
তিনি বলেন, আমি ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত কাজ করি। সেই সময়ে ইউটিউবকেন্দ্রিক বেশ কিছু কাজ করেছিলাম। তখন একশ্রেণি ইউটিউবার বলে আমাকে ছোট করার চেষ্টা করত।
হয়তো তারাই সেই কাজগুলো, নিজেদের বানানো গল্প দিয়ে আমাকে জিইয়ে রাখতে চায়। একই গল্প তারা বারবার শোনাচ্ছে। সেটা এক অর্থে হাস্যকর। কারণ আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে ভাঙছি। অভিনয় শিখছি, চেষ্টা করছি। কিন্তু একটা শ্রেণি চায় নানাভাবে আমাকে পিছিয়ে দিতে।
এ অভিনেতা বলেন, আগে তো সবার সঙ্গে আমার শুটিং হতো না। কারণ ওই যে বদনাম রটানো হতো। অনেক পরিচালক কাজ করতে চাইতেন না। এখন যাদের সঙ্গে কাজ করি, তারা এতটাই সহকর্মী হিসেবে বন্ধু হয়ে যান যে, পরের কাজগুলোর জন্য শিডিউল দিতে হয়।
এই ভালোবাসার সম্পর্কটা তৈরি হয়েছে। যারা আমাকে নিয়ে ভাবেন না, তাদের সঙ্গে যদি একবার কাজ হয়, তাহলে আমার আত্মবিশ্বাস আছে— তারাও নিয়মিত আমাকে নিয়ে কাজ করবেন।
নিজেকে মূল্যায়ন প্রসঙ্গে শামীম হাসান বলেন, আমি কেমন সেটি আমার ফেসবুক দেখলেই বোঝা যায়। আমার সঙ্গে যারা মেশেন, তারা বোঝেন। আমি আমার মতো অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। একসময় নানা রকম গল্পে কাজ করেছি।
এখন আমার কাজগুলো আগের চেয়ে বেশি পরিপক্ব। তিনি বলেন, আর আমি একটা কথা বলব— একবার কেউ আমাকে কাস্টিং করলে তিনি আমার সম্পর্কে বুঝতে পারবেন, আমি আসলে কেমন মানুষ, কেমন অভিনেতা।
এত দৃঢ় আত্মবিশ্বাস কীভাবে হলো? এমন প্রশ্নের উত্তরে এ অভিনেতা বলেন, আমি শুরুতেই বলেছি— আমি কাজ শিখছি, নিজেকে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছি। এখন একজন ওটিটির পরিচালক কী চান? তিনি ভালো একজন অভিনয়শিল্পীকে কাস্টিং করবেন। আশা করি, একবার যদি ওটিটিতে আমি কাজ শুরু করি, দেখবেন ইনশাআল্লাহ আমি নিয়মিতই ওটিটির কাজ করে যাব। আমাকে নিয়ে অনেকের ভুল ভাঙবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


