বলিউড অভিনেত্রী শেফালি শাহ। সব বয়সি নারীদের উদযাপন করা চরিত্র রূপায়নের মাধ্যমে দর্শকদের ক্ষমতায়িত করেছেন। এসব চরিত্রের ভেতরের দ্বন্দ্ব, নিরাপত্তাহীনতা, দুর্দমনীয় শক্তিকে তুলে ধরে অনেকের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। কিন্তু, নিজেই নিজের জন্য যথেষ্ট—এই উপলদ্ধি হওয়ার জন্য বাস্তব জীবনে তাকে অনেকটা সংগ্রাম করতে হয়েছে। মূলত, প্রথম বিয়ের পর এই উপলদ্ধি হয় শেফালির।

জুম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেফালি শাহ বলেন, “আমাকে কেউ কখনো বলেনি, তুমি নিজেই নিজের জন্য যথেষ্ট। নিজেকে পরিপূর্ণ মনে করতে তোমার স্বামী, বন্ধু, ভাই-বোনের প্রয়োজন নেই। তোমার জীবনে যদি সুন্দর সম্পর্ক থাকে, তবে সেটা দারুণ। আর না থাকলেও, সেটা তোমার মূল্য নির্ধারণ করে না। আমাকে কেউ এসব শেখায়নি। অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মানুষ এসব বুঝতে শিখে। মানুষের জীবনে এমন একটা মোড় আসে, আর তখনই তার এই উপলব্ধি হয়।”
প্রথম সংসার ভাঙার পর শেফালির জীবনে সেই মোড় আসে। এ অভিনেত্রী বলেন, “আমার প্রথম বিয়ের পর এই উপলব্ধি হয়েছে। আমার ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘তুমি যদি কখনো নতুন করে ভালোবাসা না পাও, তাহলে কি সেই ঝুঁকি নেবে, না কি যেমন আছো তেমনই থাকবে?’ আমি বলেছিলাম, ঝুঁকিটাই নেব। এতে করে যদি সারা জীবন একা থাকতে হয়, তবু সেটাই বেছে নেব। আমি এমন কোনো পরিস্থিতিতে থাকতে পারি না, যা আমাকে আনন্দ বা আত্মবিশ্বাসী করে না কিংবা যেখানে নিজেকে মূল্যবান মনে হয় না। তারপরই সেখান থেকে বেরিয়ে আসি এবং একা থাকার সিদ্ধান্ত নিই। যদিও এর আগে আমি বাবা-মায়ের সঙ্গেই থেকেছি।”
অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত উপলদ্ধিকে ব্যাখ্যা করে শেফালি শাহ বলেন, “বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমি এতকিছু নিয়ে ভাববে না। সবাইকে খুশি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। আমি যখন সেই নির্বাণ পর্যায়ে পৌঁছাই, তখন বুঝেছি—‘আমি পিজ্জা নই; সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারব না।”
শেফালি শাহর অভিনয়ে আসার ইচ্ছা ছিল না। তার বাবা ছিলেন রিজার্ভ ব্যাংকের চাকুরে, মা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। ছোটবেলা থেকে নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল শেফালির। মন দিয়ে ভরতনাট্যম শিখতেন, অভিনয়ে আগ্রহ মোটেও ছিল না। তবে ঘটনাক্রমে ১০ বছর বয়সে একটি গুজরাটি নাটকে অভিনয় করার পর তার জীবনের গতিপথ বদলে যায়। নাটকটি লিখেছিলেন তার স্কুলশিক্ষক। পরে অবশ্য আর অভিনয়ে দেখা যায়নি। সেটা আবার শুরু করেন কলেজে ভর্তির হওয়ার পর। মিথিবাই কলেজে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সময়ে নিয়মিত থিয়েটার করতে শুরু করেন।
গুজরাটি থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি শেফালি শাহর। ১৯৯৩ সালে প্রথম টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করেন। ১৯৯৪ সালে অভিনেতা হর্ষ ছায়াকে বিয়ে করেন এই অভিনেত্রী। ১৯৯৫ সালে ‘রঙ্গীলা’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন। তারপর ‘সত্য’, ‘মোহাব্বতে’, গুজরাটি ভাষার ‘দারিয়া ছোরু’ সিনেমায় অভিনয় করেন। ২০০০ সালে হর্ষর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এই অভিনেত্রীর। একই বছর পরিচালক বিপুল অমৃতলাল শাহর সঙ্গে নতুন করে ঘর বাঁধেন। এ সংসারে তাদের দুটো পুত্রসন্তান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির প্রাণকেন্দ্র হবে ভেনেজুয়েলা : মাচাদো
প্রথম সংসার ভাঙার পর ৪ বছর থমকে ছিলেন শেফালি। এই সময়ে নিজেকে অভিনয় থেকে দূরে সরিয়ে নেন। ২০০৫ সাল থেকে ফের অভিনয়ে সরব হন। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দ্য লাস্ট লিয়ার’-এ তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল। এর আগে ও পরে উপহার দিয়েছেন ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘ফিফটিন পার্ক অ্যাভিনিউ’, ‘দিল ধড়াকনে দো’ এর মতো সিনেমা। তবে নেট দুনিয়ার দর্শক শেফালিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন ২০১৯ সালে ‘দিল্লি ক্রাইম’ সিরিজ দিয়ে। এটি মুক্তি পায় নেটফ্লিক্সে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


