হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে মাহদীর ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দাবি করে অতীতের বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।
ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, আমরা আন্দোলন করে গভর্নমেন্টকে রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন, আন্দোলনকারী হয়েছেন তো কী হয়েছে? আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বললেন জানতে চাই।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী এনামুল হাসান নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষার্থী থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তিকে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে চাপ দেন।
পুলিশ ওই ছাত্রলীগ নেতাকে ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে মাহদী হাসানের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চাপের মুখে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, আমি রাগান্বিত হয়ে কথা বলার সময় স্লিপ অব টাং হয়ে গেছে। পরে বুঝতে পেরেছি।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাও বলেছি। ওসির সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, নয়ন নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা কিছু ছবি ও ভিডিও দেখান, যেখানে বলা হয় তিনি ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। সেই সময় থানার ভেতরে কথাবার্তা হয় এবং ওই ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
‘প্রার্থিতা বাতিলের পর কিছু কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে’
আটক ব্যক্তি বর্তমানে ছাত্রলীগের নেতা কি না—এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, সে একসময় ছাত্রলীগ নেতা ছিল বলে মনে হয়, তবে এখন নেই।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


