আগামী মার্চে লিঙ্গ নিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচারের জন্য থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন অনয়া বঙ্গার। এক মাসের মতো সময় সেখানে থাকতে হবে তাঁকে। অস্ত্রোপচারের পর ছয় মাস ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন না বলেও জানিয়েছেন অনয়া। এই পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ার খরচ বহন করবেন তাঁর বাবা, ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ সঞ্জয় বঙ্গার।

পরিবারের আপত্তি অগ্রাহ্য করেই নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন অনয়া। ছেলে হিসেবে জন্ম নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে বোঝার চেষ্টা করেছেন তিনি। ২০১১ সালে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন অনয়া। প্রায় দশ মাসের প্রক্রিয়ার শেষে আরিয়ান থেকে অনয়া হয়ে ওঠেন তিনি। সে সময় বাবার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে।
এবার যে অস্ত্রোপচারটি করাতে চলেছেন অনয়া, তার চিকিৎসাবিদ্যাগত নাম ‘Vaginoplasty’। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গের স্থানে কৃত্রিমভাবে স্ত্রীঅঙ্গ স্থাপন করা হয়। অনয়ার কথায়, মার্চে থাইল্যান্ডে অস্ত্রোপচার হবে এবং এরপর দীর্ঘ বিশ্রামের প্রয়োজন হবে। ক্রিকেট থেকে আপাতত দূরে থাকতে হবে অন্তত ছয় মাস।
অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিয়ে অনয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি হঠাৎ নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নয়। বহুদিন ধরে নিজের মানসিক প্রস্তুতি যাচাই করেছেন তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েছেন নিয়মিত। মানসিক ও চিকিৎসা মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছন তিনি।
থাইল্যান্ডের যে ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার হবে, সেখানে আগে একই ধরনের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার সাইশা শিন্ডে এবং অভিনেত্রী ত্রিনেত্রা হালদার গুমারাজু। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেই নিজের সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে বলে জানান অনয়া।
বাবার সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন প্রসঙ্গে অনয়ার বক্তব্য, শুরুতে সঞ্জয় বঙ্গার বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেননি। তবে সমাজে মানুষের আচরণ, সম্মান এবং স্বাভাবিক গ্রহণযোগ্যতা দেখে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়। শেষ পর্যন্ত মেয়ের জীবন নিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার মেনে নিয়েছেন তিনি। আসন্ন অস্ত্রোপচারের সব খরচও তিনিই বহন করবেন।
অনয়া নিজেও একসময় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেছেন। যশস্বী জয়সওয়াল ও মুশির খানদের সঙ্গে মাঠে নামার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তবে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই মুহূর্তে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিই অনয়ার প্রধান লক্ষ্য। পরিবার পাশে থাকায় আত্মবিশ্বাসী তিনি। সামনে তাঁর জীবনে কী অপেক্ষা করছে, তা সময়ই বলবে, তবে বর্তমান বাস্তবতায় নিজের পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


