ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, তারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতেই এসব কার্যক্রম চালাচ্ছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা ইসলামি প্রজাতন্ত্র কখনোই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ইরান এক মুহূর্তও পিছপা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। খবরটি জানিয়েছে বিবিসি।
বিক্ষোভের ১৩তম দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশটির নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র অপরাধী’ ও ‘আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সামরিক বা রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তেহরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন আন্দোলনকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। কয়েকটি সংস্থার দাবি, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে এবং নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা কার্যত বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানান, ইরান বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তবে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দেন।
ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস আচরণের নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো মানুষের মৌলিক অধিকার।
এর মধ্যেই ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকার এই আহ্বানকে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে দেখছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


